উদ্দীপকে প্রতিফলিত পদ্ধতিটি তথা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও পর্যবেক্ষণমূলক পন্থটি হলো একাধিক পদ্ধতি ও কৌশলের সংমিশ্রণ- প্রশ্নোক্ত এ উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত পোষণ করি।
সাধারণভাবে কোনো সমাজ বা সংস্কৃতির বিভিন্ন রীতিনীতি, আচরণ ও কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ঐ সমাজ বা সংস্কৃতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কৌশলই হলো অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি। এ পদ্ধতিটি হলো সরাসরি জনগোষ্ঠীর প্রাত্যহিক আচরণসমূহের স্বাভাবিক ও অকৃত্রিম পাঠ বা বিশ্লেষণ। G. J. Mccale এবং J. L. Simmons (১৯৯০) বলেন, "অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ কোনো একক পদ্ধতি নয়; বরং এটি একাধিক পদ্ধতি ও কৌশলের একটি সংমিশ্রণ।" অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে গবেষক লক্ষ্য দলের একান্ত সান্নিধ্যে উপস্থিত থেকে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সিন্ধান্ত গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে গবেষক লক্ষ্য দলের অতীত অবস্থার সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করতে পারেন। যা ঐতিহাসিক পদ্ধতির ধরণকে সম্পৃক্ত করে। আবার, প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাঝেও কোনো বিষয়ে গভীর তথ্য লাভের উদ্দেশ্যে উক্ত বিষয়ের সুগভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন হতে পারে, যা ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি বা কেস স্টাডি পদ্ধতির নামান্তর। একইভাবে পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন স্তরে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তের তুলনামূলক বিশ্লেষণে তুলনামূলক পদ্ধতিরও প্রয়োজন বা প্রয়োগ হতে পারে। অর্থাৎ, অংশগ্রহণ ও পর্যবেক্ষণমূলক পদ্ধতি মূলত একটি একক পদ্ধতি হলেও এতে অন্যান্য পদ্ধতি ও কৌশলের প্রয়োজনীয়তা ও উপযোগিতা দেখা দেয়, যা ব্যতীত গবেষণা অপূর্ণ রয়ে যাবে।
তাই আলোচ্য গবেষণা পদ্ধতিটিকে একাধিক পদ্ধতি ও কৌশলের সংমিশ্রণ বলা হয়।