সমাজ গবেষণায় ঐতিহাসিক পদ্ধতির তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা থাকা। সত্ত্বেও এর বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
প্রথমত, আমাদের দেশ ও সমাজ সম্পর্কে সামাজিক ইতিহাস তেমন পাওয়া যায় না। কারণ এ অঞ্চলের' সাধারণ ইতিহাস রচিত হলেও সামাজিক ইতিহাস তেমন রচিত হয়নি। দ্বিতীয়ত, এ অঞ্চলের ইতিহাসে প্রকৃত ঘটনাশ্রয়ী ইতিহাসের অভাব পরিলক্ষিত হয়। তাই এ পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সমাজ গবেষণা পুরোপুরি সফল হয় না। তৃতীয়ত, ঐতিহাসিকদেরও এদেশের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। ফলে ঐতিহাসিক গবেষণার জন্য বস্তুনিরপেক্ষ সঠিক তথ্য সংগ্রহ দুরূহ হয়ে পড়ে। চতুর্থত, আমাদের এ অঞ্চলের ইতিহাসের ঘটনার প্রাচুর্য থাকলেও ঘটনাবলির কার্যকারণ সূত্র নির্ণয় করার প্রয়াস কম। পঞ্চমত, বাংলাদেশের ইতিহাস অনেক ক্ষেত্রে কানকথা এবং লোকবিশ্বাস হওয়ায় সত্য ঘটনা বিস্তৃত হয়ে মিথ্যা ঘটনার আবির্ভাব হয়েছে। ফলে ঐতিহাসিক ঘটনাবলি তথ্যনির্ভর হয়ে ওঠে না। সার্বিক আলোচনার মাধ্যমে বলা যায়, অতীত সমাজ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করে বর্তমান সমাজে মূল্যায়ন করে একটি প্রকৃত তথ্যভিত্তিক সত্য সম্ভাবনাকে মূর্ত করার জন্য এ পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
তাই বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এ পদ্ধতির কার্যকারিতা সমাজ গবেষণায় কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনবে বলে আমি মনে করি।