উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্র সম্পর্কে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সামাজিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞান আত্মপ্রকাশ করে। মূলত পাশ্চাত্যের শিল্প বিপ্লব কাল এই সমাজবিজ্ঞানের জন্ম হয়। ফরাসি চিন্তাবিদ অগাস্ট কোঁৎকে বলা হয় সমাজবিজ্ঞানের জনক। অগাস্ট কোঁৎ ১৮৩৯ সালে Sociology শব্দটি চয়ন করেন। তিনি সমাজ বিশ্লেষনের জন্য একটি আলাদা বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং সেই অনুভব থেকেই পরবর্তীতে একটি বিজ্ঞানের জন্ম দেন। তবে সে সময় তিনি এই বিজ্ঞানের নাম দেন Social Physics। পরবর্তী সময়ে তিনি এটিকে Sociology নামে অভিহিত করেন। সমাজবিজ্ঞান সমাজের মানুষের আচার-আচরণ, আদর্শ-মূল্যবোধ, ব্যক্তি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্কসহ গোটা সমাজকে বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে বিশ্লেষণ ও গবেষণা করে। তবে এটি নতুন সৃষ্টি হয় একটি বিজ্ঞান হলেও সমাজব্যবস্থাকে জানার ও বোঝার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে বহু আগে থেকে। গ্রীক দার্শনিক প্লেটো ও এরিস্টটল তাদের লেখনীতে সমাজ সম্পর্কিত সুসংবদ্ধ চিন্তা চেতনা ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা করেছিলেন। এছাড়াও মুসলিম দার্শনিক ইবনে খালদুন তার আল মুকাদ্দিমা গ্রন্থে সামাজিক ঘটনাবলীর ব্যাখ্যা উল্লেখ করেন।
উদ্দীপকে ও এমন একটি শাস্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেটি সামাজিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত এবং উনবিংশ শতকের মধ্যভাগে এটির উদ্ভব হয়। তবে এ শাস্ত্রটি নবীন হলেও এর প্রেক্ষাপট অনেক পুরনো। মানব সভ্যতার ইতিহাসে সমাজ সৃষ্টির সময় থেকেই এই নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়। গ্রিক দার্শনিক প্লেটো, অ্যারিস্টটল, রুশো, ইবনে খালদুন প্রমূখ এই শাস্ত্রের উত্তরসূরী।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্র সম্পর্কে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।