হেলাল ও জাকিরের বিষয় দুটি হলো যথাক্রমে সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান। এ বিষয় দুটির মধ্যে আংশিক সম্পর্ক রয়েছে- প্রশ্নোক্ত এ উক্তিটির সাথে আমি একমত।
সমাজবিজ্ঞান সামাজিক সম্পর্ক, সমাজকাঠামো, সমাজ পরিবর্তনের নিয়ামক শক্তি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু মানুষ যেসব বন্ধনের বশবর্তী হয়ে সমাজবদ্ধভাবে বাস করে, তা অনেক ক্ষেত্রে মানসিক বলা চলে। যেমন- পরিবারের মধ্যে স্নেহ-মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি। মনোবিজ্ঞান মূলত এসব মানসিকতা নিয়ে আলোচনা করে। অর্থাৎ মানসিকতার আলোচনা ও এর প্রভাবের দিক থেকে সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান আংশিকভাবে সম্পর্কযুক্ত।
সমাজবিজ্ঞান মানবসমাজের পারস্পরিক ক্রিয়া এবং তার অবস্থা ও পরিণতি সম্পর্কে পর্যালোচনা করে। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা কেবল সমাজে বসবাসরত মানুষের মন নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া মনোবিজ্ঞানী ব্যক্তির দৈহিক গড়ন ও প্রক্রিয়া, মস্তিষ্কের কার্যাবলি ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণাগারে পরীক্ষা চালান। অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞানী ব্যক্তির আচরণের সামাজিক উপাদান বিশ্লেষণ করেন এবং ব্যক্তিকে কোনো গবেষণাগারে নয় বরং সমাজ নামক গবেষণা ক্ষেত্রেই পর্যবেক্ষণ করেন। এ দুটি বিষয়ের পরিধি, লক্ষ্য, পদ্ধতি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের মধ্যে আংশিক সম্পর্ক থাকলেও উভয়ের মধ্যে বৈসাদৃশ্যই তুলনামূলক বেশি।