উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়টিকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয়েছে।
সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে এমন একটি শাস্ত্র যা সমাজের সামগ্রিক দিক নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান ও আলোচনা করে। একটি আলাদা বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের জন্ম মূলত উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পাশ্চাত্যের শিল্প বিপ্লব ও রাজনৈতিক বিপ্লবের যুগে। সমাজ, সংঘ, সমাজকাঠামো, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে সমাজবিজ্ঞান গভীরভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেসণ করে। এছাড়া পরিবার, ধর্ম, বিবাহ, শিক্ষা, রাজনীতি প্রভৃতি স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের আলোচনা করে; পাশাপাশি এসব সামাজিক প্রতিষ্ঠান কালের পরিক্রমায় কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তা নিয়েও সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে। অর্থাৎ সমাজের সামগ্রিক বিষয়াবলি নিয়ে সমাজবিজ্ঞান পঠন-পাঠন, আলোচনা ও গবেষণা করে। এ জন্য সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পর সমাজজীবনে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে তার প্রেক্ষাপটে একটি স্বতন্ত্র বিষয়ের উদ্ভব হয়েছে, যা সমাজবিজ্ঞানকে নির্দেশ করে। পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে স্পষ্ট যে, গোটা সমাজই সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয় বা ক্ষেত্র। মূলত এ কারণেই সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয়।