সমাজবিজ্ঞানের পরিধি উদ্দীপকে আলোচিত বিবাহ ও পরিবারের সমাজবিজ্ঞানের বাইরেও বিস্তৃত- প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সমাজবিজ্ঞান হলো গোটা সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ। একটি গতিশীল বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞান সমাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তার পঠন-পাঠন ও গবেষণার জন্য সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার উদ্ভব ঘটেছে। যেমন- ধর্মের সমাজবিজ্ঞান ধর্ম সম্পর্কে, সাংস্কৃতিক সমাজবিজ্ঞান সংস্কৃতি সম্পর্কে, আইনের সমাজবিজ্ঞান আইন সম্পর্কে, বিবাহ ও পরিবারের সমাজবিজ্ঞান বিবাহ ও পরিবার নিয়ে আলোচনা করে। তবে এসব বিষয় ছাড়াও সমাজবিজ্ঞানের পরিধি আরও ব্যাপক।
সমাজবিজ্ঞানের পরিধির অন্তর্ভুক্ত সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন পদ, প্রত্যয়, তত্ত্ব, নীতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে সমাজতাত্ত্বিক মতবাদ বিচার-বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করে। পরিবারের উৎপত্তি, বিবর্তন, বিকাশ, ধরন, প্রকৃতি, রীতিনীতি সমাজবিজ্ঞানে আলোচিত হয়। ঐতিহাসিক সমাজবিজ্ঞানে প্রাচীন সমাজ, সমাজের উদ্ভব, বিকাশ ও বর্তমান সমাজের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গবেষণা করা হয়। নগরের সমাজ, অর্থনীতি, নেতৃত্ব কাঠামো, ক্ষমতা কাঠামো, মর্যাদা ও স্তরবিন্যাস ইত্যাদি নিয়ে নগর সমাজবিজ্ঞান আলোচন করে। আবার সামাজিক পরিসংখ্যান, সামাজিক ঘটনাবলির সংখ্যাতাত্ত্বিক বিচার-বিশ্লেষণ করার পন্থা ও কৌশল সম্পর্কে ব্যাখ্যা দান করে। শিল্প উৎপাদন, বণ্টন, ভোগব্যবস্থা ও সমাজকাঠামোর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার আলোচনা শিল্প সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত। এছাড়া সামাজিক মনোবিজ্ঞান সামাজিকীকরণ সম্পর্কে, সামাজিক জনবিজ্ঞান জনসংখ্যা সম্পর্কে এবং রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করে।
পরিশেষে বলা যায়, সমাজে সংঘটিত সবকিছুই সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়বস্তু। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে আলোচিত বিবাহ ও পরিবার বিষয় ছাড়াও সমাজবিজ্ঞানের পরিধি অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত।