উদ্দীপকে উল্লিখিত সচেতনতা জাগ্রতকরণ এবং সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য অনুধাবন ছাড়াও সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নের আরও অনেক গুরুত্ব রয়েছে। সমাজবিজ্ঞান হলো বাস্তবসম্মত বিজ্ঞান। তাই সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। যে সমাজে আমরা বাস করি সে সমাজ সম্পর্কে বাস্তব তথা পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান ছাড়া আমাদের সামাজিক জীবন অসম্পূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ থেকে যাবে।
উদ্দীপকে একদল তরুণকে স্বেচ্ছায় সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এটি সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞানকে কাজে লাগানোর উপায়। তবে এর বাইরেও আরও অনেক বিষয় আছে যা সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নে জানা যায়। সমাজবিজ্ঞান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পদ এবং সুযোগ-সুবিধার বণ্টন সম্পর্কে জ্ঞানদান করে। সমাজের উৎপাদন যন্ত্রের সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর সম্পর্ক কী, কে, কতটা উৎপাদনে অবদান রাখছে, কারা, কতটা ভোগ করছে এবং কারা বঞ্চিত হচ্ছে প্রভৃতি বিষয়ে আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পারি সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে। আর্থসামাজিক এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনা প্রণয়নে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে হলে সে পরিকল্পনা সামাজিক সমস্যার আলোকে হতে হবে। সমাজ কোন ধারায় পরিবর্তিত হচ্ছে, ব্যক্তি, শ্রেণি ও জাতি হিসেবে আমাদের কোন পন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞান আমাদেরকে পথ নির্দেশনা দিতে পারে।
সমাজবিজ্ঞান বিশ্বের বিভিন্ন সমাজ ও জাতির মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সমাজবিজ্ঞান পাঠে আমরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সমাজ, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠী সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারি। এতে পারস্পরিক ভাবের আদান-প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। উক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান ব্যাপক পরিসরে সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে।