হ্যাঁ, সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে নির্দেশিত স্তর তথা দৃষ্টবাদের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে আমি মনে করি।
দৃষ্টবাদের প্রবক্তা সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁৎ। দৃষ্টবাদের মৌল' উদ্দেশ্য হলো মানব সমাজকে পরিবর্তনের অপরিবর্তনীয় সূত্রটি আবিষ্কার করে কীভাবে সমাজকে সুসংগঠিত এবং স্থিতিশীল করে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায় তা অনুসন্ধান করা। আর এই লক্ষ্য অর্জন করতে জ্ঞানের যে শাখার প্রয়োজন তা হলো সমাজবিজ্ঞান। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞানের সাথে দৃষ্টবাদের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান এবং। সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টবাদের প্রচ্ছন্ন অবদান রয়েছে। অগাস্ট কোঁৎ সমাজবিজ্ঞানকে প্রতিষ্ঠিত ও বিকাশ সাধনের উদ্দেশ্যে ইতিহাস তৈরি পূর্বক ইতিহাসের ব্যাখ্যাস্বরূপ দৃষ্টবাদ বলে আখ্যায়িত করেন। ইতিহাসকে তিনি বিজ্ঞানসম্মত বলে আখ্যায়িত করেন কারণ পৃথিবী এক অমোঘ অপরিবর্তিত প্রাকৃতিক নিয়ম-শৃঙ্খলার দ্বারা পরিচালিত এবং এসব নিয়মকে কেবল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা সম্ভব। এভাবে দৃষ্টবাদ প্রয়োজনীয় জ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত। দৃষ্টবাদে যেমন নৈতিক ও প্রায়োগিক দিক রয়েছে তেমনি রয়েছে বৃদ্ধিবৃত্তি সংক্রান্ত মানব সমাজের উন্নতি সাধনার দিক নির্দেশনা।
আর এদিক থেকে দৃষ্টবাদকে সমাজ পুনর্গঠনের হাতিয়ার মনে করা হয়। সর্বোপরি বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টবাদের ভূমিকা গুরুত্বের সাথে বিবেচ্য।