বর্তমান জীবনব্যবস্থার সাথে দৃষ্টবাদের সম্পর্ক রয়েছে। অগাস্ট কোঁৎ তার যুগ পর্যন্ত জ্ঞানের সমগ্র বিকাশের একটা ইতিহাস তৈরির চেষ্টা করেন।
এ প্রচেষ্টায় ইতিহাসের যে ব্যাখ্যা তিনি উপস্থাপন করেন সে ব্যাখ্যাকে দৃষ্টবাদ বলে আখ্যায়িত করেন। অগাস্ট কোঁৎ মনে করেন যে, দৃষ্টবাদ বিজ্ঞানসম্মত। পৃথিবী এক অমোঘ অপরিবর্তিত প্রাকৃতিক নিয়ম-শৃঙ্খলার দ্বারা পরিচালিত এবং এসব নিয়মকে কেবল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা সম্ভব। এভাবেই দৃষ্টবাদ প্রয়োজনীয় জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত। উদ্দীপকে রতনপুর গ্রামে ধর্ম ও ধর্মীয় গুরুদের একটা প্রভাব একসময় দেখা গেলেও এখন সে অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। বর্তমানে মানুষ সকল গোঁড়ামি ও কুসংস্কারকে পাশ কাটিয়ে, জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে এবং বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় শামিল হয়ে নিজেদের জীবনযাত্রাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, যা অগাস্ট কোঁতের দৃষ্টবাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কোঁতের দৃষ্টবাদের ধারণায় বিজ্ঞানসম্মত প্রায়োগিক ও নৈতিক দিক যেমনটি রয়েছে ঠিক তেমনটি রয়েছে বুদ্ধিবৃত্তি সংক্রান্ত মানবসমাজের উন্নতি সাধনের দিক নির্দেশনা। সেজন্য তিনি মানুষ ও সমাজ সম্পর্কে ধর্মতাত্ত্বিক ও অধিবিদ্যাসংক্রান্ত ধ্যানধারণা বর্জন করেছিলেন। তিনি বলেন, সমাজবিজ্ঞানে অবৈজ্ঞানিক যুক্তি, ধ্যানধারণা ও সিদ্ধান্তের স্থান ও গ্রহণযোগ্যতা নেই। তার মতে, সমাজ পুনর্গঠন সম্ভব শুধু বিভিন্ন বিজ্ঞানের সমন্বয় এবং সংশ্লেষণের মাধ্যমে দৃষ্টবাদী রাজনীতি সৃষ্টির মাধ্যমে। দৃষ্টবাদ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করলেও কোঁতের দৃষ্টবাদকে সমাজ পুনর্গঠনের হাতিয়ার হিসেবে মনে করা যায়। কারণ সমাজ পুনর্গঠন করার নৈতিক দৃষ্টিকোণ 'অন্যের জন্য জীবন' এর মূল বক্তব্য তুলে ধরে।
তিনি দৃষ্টবাদী বিজ্ঞানের বিশেষ করে সামাজিক বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক এবং প্রবক্তা ছিলেন। এ বিজ্ঞানকেই তিনি সমাজবিজ্ঞান নামকরণ করেন।