সমাজচিন্তার জগতে যেসব দার্শনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাদের মধ্যে জার্মান সমাজবিজ্ঞানী কাল মার্কস অন্যতম।
একজন সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিকাশে তিনি বেশকিছু তত্ত্ব প্রদানপূর্বক অসামান্য অবদান রেখেছেন। মার্কসের প্রধান তত্ত্বসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্ব। তার মতানুযায়ী প্রতিটি সমাজের মধ্যেই দুটি শ্রেণি বিদ্যমান- শোষক এবং শোষিত। তিনি বলেন, কোনো একটি সমাজের উৎপাদন ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অনুকূলে কাজ করে। এ শ্রেণিটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে শোষণ করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও আদর্শগত অবস্থা গড়ে তোলে। ফলে ওই শ্রেণিটি বিদ্যমান সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন চায় না, বরং টিকিয়ে রাখতে চায়। অন্যদিকে শোষিত শ্রেণিটি সবসময় বিদ্যমান সমাজব্যবস্থার বিপক্ষে থাকে। মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত হলো তার উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্বটি। এটি মার্কসের একটি মৌলিক সৃষ্টি। তার মতে, অন্যান্য পণ্যের মতো মানুষের শ্রমশক্তিও একটি পণ্য যার দ্বিবিধ মূল্য যথা- বিনিময় মূল্য এবং ব্যবহারিক মূল্য বিদ্যমান। শ্রম সংগ্রহ করার জন্য শ্রমিককে যে মূল্য দেওয়া হয় সেটি হলো বিনিময় মূল্য। আর এ শ্রমের ফলে সৃষ্ট দ্রব্যাদি বাজারজাত করে পুঁজিপতিরা যে মূল্য অর্জন করে সেটি হলো শ্রমের ব্যবহারিক মূল্য। মার্কস বলেন, এক্ষেত্রে শ্রমের বিনিময় ও ব্যবহারিক মূল্যের মধ্যে যে পার্থক্য বিদ্যমান তাই হলো উদ্বৃত্ত মূল্য। সবশেষে বিচ্ছিন্ন শ্রম তত্ত্ব হলো মার্কসের দর্শনের উপজীব্য।
তার মতে, বিচ্ছিন্নতাবোধ হলো শ্রমিক যা উৎপাদন করে তাতে তার অধিকার থাকে না, এজন্য সে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে। পরিশেষে বলা যায়, প্রদত্ত চিত্রে উল্লিখিত কার্ল মার্কসের এ তিনটি তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানের মার্কসীয় চিন্তাচেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে।