মানব সমাজের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে হার্বার্ট স্পেন্সারের বিবর্তনবাদী তত্ত্বটি অনুসরণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।
হার্বার্ট স্পেন্সারের তত্ত্ব অনুযায়ী সমাজের বিবর্তন হয় জীবজগতের বিবর্তনের মতোই। তিনি জীবদেহের সাথে সমাজ সত্তার অনেক সাদৃশ্য খুঁজে পেয়ে ধারণা করেন প্রত্যেকটি সমাজ হলো এক একটি জীবদেহের মতো। তার মতে, এক কোষবিশিষ্ট অত্যন্ত সাধারণ এক রকম প্রাণী থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান জীবজগতের বিকাশ ঘটেছে। তেমনি মানবসমাজেও বিবর্তন ঘটছে। সমাজ আদিম অবস্থা থেকে বিবর্তিত হয়ে বর্তমান স্তরে এসেছে। যেমন আদিম যুগে সমাজ ছিল সরল কিন্তু সময়ের বিবর্তন প্রক্রিয়ায় সমাজ হয়েছে বিস্তৃত, জটিল ও বহুমুখী। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জীবদেহ এবং সমাজ দেহের বিকাশ লাভের সাথে সাথে এদের কাঠামোগত জটিলতা বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে দুয়ের ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী। জীবসত্তা যেমন জন্মলাভের পর বুদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে, তেমনি সমাজেরও উদ্ভবের পর তা বিকশিত এবং অবশেষে উন্নতির শীর্ষে প্রয়োজনমতো কর্ম সম্পাদন করে। এভাবে জৈবিক সাদৃশ্যের তত্ত্ব দ্বারা তিনি মানব সমাজের বিবর্তনের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেন।
তাই বলা যায়, মানব সমাজের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে হার্বার্ট স্পেন্সারের তত্ত্বটি নিঃসন্দেহে অনুসরণীয় কারণ এটি যথেষ্ট যৌক্তিক ও সুস্পষ্ট।