ছকে উল্লিখিত ম্যাক্স ওয়েবারের সামাজিক স্তরবিন্যাসের তত্ত্বটি বহুরৈখিক- এ বিষয়টি সঠিক ও যুক্তিযুক্ত। ম্যাক্স ওয়েবারের গবেষণার একটি বিশেষ দিক হলো সমাজ।
তিনি সমাজের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা সাপেক্ষে সামাজিক স্তরবিন্যাসের তত্ত্বটি দাঁড় করিয়েছেন। সামাজিক স্তরবিন্যাসের ক্ষেত্রে তিনি তিনটি দিকের কথা উল্লেখ করেন। এ দিক তিনটি হলো শ্রেণি, মর্যাদা ও ক্ষমতা। সমাজে যারা সম্পত্তিহীন তারাও একটি শ্রেণি। এ দুই শ্রেণি বাজার অবস্থার ওপর ভিত্তি করে শ্রেণি গড়ে তোলে। অন্যদিকে, সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে ওয়েবারের মর্যাদাগোষ্ঠী গঠিত সামাজিক মর্যাদা নির্ধারিত হয় জীবনধারণের পদ্ধতি এবং জীবন-সম্ভাবনা দ্বারা। তবে সামাজিক মর্যাদা ব্যক্তির কর্মকান্ড দ্বারাও নির্ণীত হয়। ওয়েবারের মতে শ্রেণি ও মর্যাদা ছাড়াও শুধু ক্ষমতার ভিত্তিতে কোনো সমাজ স্তরে বিভক্ত হতে পারে। অর্থাৎ প্রায় সকল সমাজেই কতিপয় ব্যক্তি ক্ষমতা আয়ত্ত করে ও এর ব্যবহার করে এবং অন্যরা ক্ষমতা বলয়ের বাইরে অবস্থান করে। ওয়েবার ওই ব্যক্তিকে ক্ষমতাবান বলেছেন, যে অন্যের বাধা সত্ত্বেও নিজের ইচ্ছার অভিব্যক্তি ঘটাতে সক্ষম। মূলত সামাজিক স্তরবিন্যাস সমাজের বিভিন্ন মানুষ ও শ্রেণিকে নানাবিধ স্তরে বিভক্ত করেছেন। এটি সামাজিক ঘটনা ও মিথস্ক্রিয়ার ফলে ঘটে থাকে। ম্যাক্স ওয়েবার সামাজিক স্তরবিন্যাস সম্পর্কে বলেছেন, সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে সামাজিক মানুষের বিভাজন। এর ভিত্তি হচ্ছে সম্পত্তি, ক্ষমতা ও মর্যাদা। সর্বোপরি, ম্যাক্স ওয়েবারের সামাজিক স্তরবিন্যাসে সমাজের সমস্ত বিভাজনের চিত্র পরিলক্ষিত হয়।
তাই বলা যায়, ম্যাক্স ওয়েবার প্রদত্ত সামাজিক স্তর বিন্যাসের তত্ত্বটি বহুরৈখিক।