উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজবিজ্ঞানী তথা ইবনে খালদুনের চিন্তাধারার কেন্দ্রীয় প্রত্যয় হচ্ছে Social Solodarity বা সামাজিক সংহতি। -উক্তিটি যথার্থ। Social Solidarity বা সামাজিক সংহতিকে ইবনে খালদুন আসাবিয়া শব্দ দ্বারা প্রকাশ করেছেন।
যাকে বাংলায় গোত্র সংহতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইবনে খালদুনের মতে, সমাজের ভিত্তিই হলো এ গোত্র, সংহতি বা আল আসাবিয়া। উদ্দীপকে উপস্থাপিত তথ্যগুলো বিখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ, দার্শনিক, ঐতিহাসিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুনের প্রতিই নির্দেশ করেছে। সমাজের অগ্রগতি সাধনে ইবনে খালদুনের 'আল আসাবিয়া'র তাৎপর্য অপরিসীম।ইবনে খালদুনের সমাজতাত্ত্বিক চিন্তাধারার কেন্দ্রীয় প্রত্যয় হলো আল আসাবিয়া। আসাবিয়া বলতে বোঝায় সামাজিক সংহতি বা গোত্র সংহতি। আর সমাজের ভিত্তিই হচ্ছে এ গোত্র সংহতি। রক্ত, জাতি এবং ধর্ম সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে সামাজিক সংহতি গড়ে ওঠে। আর এজন্যই রাষ্ট্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশে গোত্র সংহতির গুরুত্ব অত্যধিক। কোনো রাষ্ট্রের ক্রমবিকাশ, উত্থান-পতন মূলত এর ওপর ভিত্তি করেই প্রবাহিত হয়। আবার আসাবিয়ার ভিন্নতর কারণে সমাজ ও রাজনৈতিক কাঠামোতে নানা ধরনের পরিবর্তন সূচিত হতে পারে। আর এসব পরিবর্তন চক্রাকারে সংঘটিত হয়। তাই বলা হয়ে থাকে, সমাজ ও রাষ্ট্রের উত্থান-পতনের কারণ অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে আসাবিয়ার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
কেননা একেক সমাজের ভাষা, সংস্কৃতি, পরিবেশ একেক রকম হয়। খালদুনের মতে, উপজাতীয় সমাজে সামাজিক সংহতি সবচেয়ে দৃঢ়। স্থায়ী জীবন অপেক্ষা যাযাবর জীবনে এর আধিক্য পরিলক্ষিত হয়।