জাকির সাহেবের নিজ অঞ্চলের মানুষ ধর্মতাত্ত্বিক স্তরে অবস্থান করছে। তাদেরকে দৃষ্টবাদী স্তরে উত্তরণের মধ্য দিয়ে অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব বলে আমি মনে করি।
অগাস্ট কোঁৎ মানব সমাজের বিকাশকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, পৃথিবীর সব সমাজ অত্যাবশ্যকীয়ভাবে তিনটি স্তর অতিক্রম করে এসেছে। স্তর তিনটি হলো ধর্মতাত্ত্বিক, অধিবিদ্যাগত এবং দৃষ্টবাদী। ধর্মতাত্ত্বিক স্তর হলো সে অবস্থা যে স্তরে মানুষের মনে যুক্তিবাদী ধারণার সৃষ্টি হয়নি। এ সময় বিমূর্ত নীতি এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সমাজ ও সমাজের ঘটনাবলি নিয়ন্ত্রিত হয়। এ ধারণাগুলো আস্তে আস্তে পরিবর্তিত হতে শুরু করে অধিবিদ্যাগত স্তরে। কিন্তু এ পরিবর্তন পূর্ণতা পায় দৃষ্টবাদী স্তরে। মানুষ যখন ঐশ্বরিক, অতিপ্রাকৃত ও অলৌকিক শক্তির অস্তিত্বকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস পায় তখনই দৃষ্টবাদী স্তরের আবির্ভাব ঘটে। এ স্তরে কল্পনার পরিবর্তে বস্তুনিষ্ঠ যুক্তি ও পর্যবেক্ষণ সম্মিলিতভাবে জ্ঞানের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এ স্তরে অবস্থানকারী ব্যক্তি মনে করে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে যেমন জড় জগৎ সম্পর্কে জানা যায়, তেমনি সামাজিক ঘটনা ও পরিস্থিতিকে বস্তুনিষ্ঠভাবে অধ্যয়ন করা যায় । অর্থাৎ এ স্তরে মানুষ আবেগ দিয়ে নয় বরং যুক্তি দিয়ে সামাজিক প্রপঞ্চকে বিচার করে।
উদ্দীপকের জাকির সাহেবের অঞ্চলের মানুষ দৈবশক্তিতে বিশ্বাস করে এবং তারা নিজেদের ভালো-মন্দের জন্য নিজেদের ভাগ্যকেই দায়ী করে, যা ধর্মতাত্ত্বিক স্তরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। দৃষ্টবাদী ধারণা দ্বারা তাদের এ ধরনের চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন সম্ভব।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি, জাকির সাহেবের অঞ্চলের মানুষের ধ্যান- ধারণায় দৃষ্টবাদী চিন্তার প্রসার ঘটানো গেলে তাদের অবস্থার পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।