দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত অবস্থা অর্থাৎ শ্রেণিবৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজন সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন।
উদ্দীপকে শ্রেণিবৈষম্য বিলোপের জন্য সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন দ্বারা মূলত সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জার্মান দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও সমাজতাত্ত্বিক কার্ল মার্কস মনে করেন, প্রতিটি সমাজব্যবস্থাতেই শ্রেণিবৈষম্য ছিল। কিন্তু এ বৈষম্য চরম রূপ লাভ করে পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায়। এ ব্যবস্থায় পুঁজিপতি চায় স্বল্পমূল্যে বেশি শ্রম বিনিয়োগ করে সর্বাধিক মুনাফা অর্জন করতে। অন্যদিকে শ্রমিক শ্রেণি চায় এ ব্যবস্থার অবসান করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন। ফলে এ বিপরীতমুখী শ্রেণিদ্বয়ের মাঝে দেখা দেয় চরম দ্বন্দ্ব। কার্ল মার্কস এ সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন করে সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দেন। মার্কসের মতে, সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা হবে। কারণ সমাজতন্ত্রে ব্যক্তি মালিকানার ধারণা বিলোপ হবে। আর সম্পদের ওপর ব্যক্তি মালিকানা না থাকলে শোষণের চিন্তা থেকে মানুষ বের হয়ে আসবে। সুতরাং এটা বলা যায় যে, সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা হলে সমাজে শ্রেণি ও শ্রেণি শোষণের অবসান ঘটবে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ লক্ষণীয়, শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পায় না। পক্ষান্তরে এই শ্রমিকদেরকেই ব্যবহার করে মালিকশ্রেণি উত্তরোত্তর অধিক সম্পদের মালিক হচ্ছে, যা পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় বিদ্যমান শ্রেণিবৈষম্যকেই নির্দেশ করছে। সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে এ অবস্থার অবসান হতে পারে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের সমাজের বৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজন সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। যার মূল লক্ষ্য সাম্যবাদ। আর এটি প্রতিষ্ঠিত হলেই শোষণমূলক সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন হতে বাধ্য ।