উদ্দীপকে নির্দেশিত সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের বিখ্যাত মতবাদসমূহের অন্যতম আত্মহত্যা সম্পর্কিত মতবাদ।
সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম তার ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত 'The Suicide গ্রন্থে পরিসংখ্যানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আত্মহত্যার সামাজিক উপাদানগুলোকে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, আত্মহত্যা হলো একটি ব্যক্তিগত ঘটনা কিন্তু আত্মহত্যার হার একটি সামাজিক ঘটনা। আত্মহত্যা সম্পর্কিত মতবাদ অনুযায়ী আত্মহত্যা ব্যক্তিগত, মনস্তাত্ত্বিক, ভৌগোলিক বা দৈহিক কারণে ঘটে না বরং এটি একটি সামাজিক ঘটনা এবং সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব। 'The Suicide গ্রন্থে তিনি চার ধরনের আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করেছেন। যথা: ১. আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যা ২. পরার্থপর আত্মহত্যা, ৩. নৈরাজ্যমূলক আত্মহত্যা এবং ৪. অদৃষ্টবাদী আত্মহত্যা। ডুর্খেইমের মতে, সমাজ বা গোষ্ঠীর মধ্যে সংহতির অভাব দেখা দিলে আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যা সংঘটিত হয়। আবার ব্যক্তির সাথে সমাজের অতিরিক্ত সংহতির কারণে পরার্থপর আত্মহত্যা ঘটে। নৈরাজ্যজনক বা বিশৃঙ্খল অবস্থায় যখন ব্যক্তির ওপর সমাজের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না ও ব্যক্তি নিজেকে সমাজের সাথে যুক্ত করতে পারে না তখন নৈরাজ্যমূলক আত্মহত্যা ঘটে। অন্যদিকে অদৃষ্টবাদী আত্মহত্যা হচ্ছে নৈরাজ্যমূলক আত্মহত্যার সম্পূর্ণ বিপরীত। যখন ব্যক্তির ওপর গোষ্ঠীর প্রভাব অনেক বেড়ে যায় এবং কঠোর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় তখন অদৃষ্টবাদী আত্মহত্যার হার বাড়ে।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ডুর্খেইমের আত্মহত্যা মতবাদটির সমাজতাত্ত্বিক ভিত্তি রয়েছে। আত্মহত্যার ঘটনাবলির পরিসংখ্যান গ্রহণ এবং এর পরিমাণ নিরূপণ করা যায়। ফলে এটি আর আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচ্য থাকে না, বরং একটি সামাজিক ঘটনায় পরিণত হয়।