উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১ দ্বারা সম্প্রদায় এবং দৃশ্যপট-২ দ্বারা সংঘকে নির্দেশ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে দৃশ্যপট-২ এ লক্ষণীয়, 'ক' গ্রামের কতিপয় যুবক 'সবুজের পাঠশালা' নামে একটি সংগঠন তৈরি করে। যার মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামের দরিদ্র ছেলেমেয়েদের বর্ণমালা শিক্ষা দেওয়া। 'সবুজের পাঠশালা' সংগঠনটির এসব বৈশিষ্ট্য সংঘকে নির্দেশ করে। সম্প্রদায় ও সংঘের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন- সম্প্রদায়ের জন্য সাম্প্রদায়িক মনোভাব প্রয়োজন। কিন্তু সংঘের জন্য সাম্প্রদায়িক মনোভাবের প্রয়োজন নেই। সম্প্রদায় একটি স্থায়ী সংগঠন। কিন্তু সংঘের নির্দিষ্ট স্থায়িত্ব নেই। সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এলাকার লোক হতে হয়। কিন্তু সংঘের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এলাকার লোক হতে হয় না। সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্য সহজেই অনুমেয়। কিন্তু সংঘের উদ্দেশ্য সহজে অনুমান করা যায় না। সম্প্রদায় কোনো সংগঠনের অধীন নয়। পক্ষান্তরে, সম্প্রদায়ের অধীনস্থ একটি সংগঠন হলো সংঘ। একজন ব্যক্তি একাধিক সম্প্রদায়ের সদস্য হতে পারে না। কিন্তু একজন ব্যক্তি একাধিক সংঘের সদস্য হতে পারে। সম্প্রদায়ের মধ্যে সদস্যরা তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে। কিন্তু সংঘের মধ্যে সমস্ত উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। সম্প্রদায়ের মৌলিক ভিত্তি হলো- এলাকা ও সম্প্রদায়গত মানসিকতা। পক্ষান্তরে, সংঘের নির্দিষ্ট কোনো ভিত্তি নেই। একটি সম্প্রদায় সংগঠিত হওয়া দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। কিন্তু সংঘ যেকোনো সময় সংগঠিত হতে পারে। এভাবে সম্প্রদায় ও সংঘের মধ্যে বৈসাদৃশ্যমূলক সম্পর্ক নির্ণীত হয়।
সুতরাং উপরের আলোচনা প্রেক্ষিতে বলা যায়, সম্প্রদায় ও সংঘের মধ্যে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, গঠন ও কার্যকারিতাগত নানাবিধ পার্থক্য রয়েছে।