উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত স্থান দুটি দ্বারা যথাক্রমে সমাজকাঠামো ও সামাজিক স্তরিবন্যাসকে বোঝানো হয়েছে। এই দুটি প্রত্যয় পরস্পর সম্পর্কিত।
সমাজকাঠামো এবং সামাজিক স্তরবিন্যাসের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কারণ সর্বযুগে সর্বকালে সর্বজনীন সামাজিক কাঠামোরই স্বাভাবিক রূপ হচ্ছে সমাজের স্তরবিন্যাস। অধিকাংশ সমাজবিজ্ঞানী সামাজিক স্তরবিন্যাসকে চার ভাগে ভাগ করেছেন। যথা-দাস প্রথা, এস্টেট প্রথা, জাতিবর্ণ এবং শ্রেণি ও পদমর্যাদা। উদ্দীপকের চিত্রের 'খ' অংশেও এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। যা সামাজিক স্তরবিন্যাসকে নির্দেশ করে। সমাজকাঠামোয় স্তরবিন্যাস একটি সাধারণ বিষয়। দাস সমাজের সমাজকাঠামো দাসনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা এবং উৎপাদন সম্পর্কে ব্যক্তিগত মালিকানা, সুদৃঢ় পারিবারিক সম্পর্ক ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত। এ সমাজে দুটি শ্রেণি লক্ষ করা যায়। দাস মালিক ও দাস। দাসপ্রথা সামাজিক স্তরবিন্যাসের অন্যতম একটি ধরন। মধ্যযুগে ইউরোপে ভূমিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার ভিত্তিতে সামন্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে ভূমির মালিক শ্রেণিকে ভূস্বামী, জমিদার প্রভৃতি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সমাজে পুরোহিতরা ছিল উচ্চ মর্যাদার শ্রেণি। ভূমিদাস, কৃষক ছিল নিম্নশ্রেণির। এটি নির্ণীত হতো মূলত হিন্দুদের জাতিবর্ণ প্রথার আলোকে। আর মুসলিম সমাজে ছিল শ্রেণি ব্যবস্থা। অভিজাত, দার্শনিক, জমিদাররা ছিল উচ্চশ্রেণির। কৃষক ও ভূমি দাসরা ছিল নিম্নশ্রেণির। আর ছোট ব্যবসায়ী, সৈনিক ছিল মধ্যমশ্রেণির অন্তর্গত। তবে আধুনিককালে সম্পদ ও শিক্ষার ভিত্তিতে সমাজে স্তরবিন্যাস তৈরি হয়েছে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সমাজকাঠামোই সামাজিক স্তরবিন্যাসকে নির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণ, পরিবর্তন ও প্রভাবিত করে। তাই সমাজকাঠামো এবং সামাজিক স্তরবিন্যাস পরস্পর সম্পর্কিত এবং পরস্পরের পরিপূরক।