উদ্দীপকে উল্লিখিত মৌল প্রত্যয় তথা সংঘ প্রত্যয়টির সাথে প্রতিষ্ঠানের মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে।
সংঘ বলতে এমন একটি সংগঠনকে বোঝায়, যার মাধ্যমে সমাজের সদস্যবৃন্দ স্বেচ্ছায় একত্রিত হয়ে সমষ্টিগত উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সম্মিলিত প্রয়াস চালায়। যেমন- ক্রিকেট ক্লাব, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠান হলো সমাজস্থ ব্যক্তিদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় বিশেষ। উদাহরণস্বরূপ সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার কথা বলা যায়। প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য সহজে অনুমেয়। কিন্তু সংঘের উদ্দেশ্য সহজে অনুমান করা যায় না। সংঘ তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র পরিসরে গঠিত। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠান বৃহৎ পরিসরে গঠিত হয়। সংঘ মূলত একটি প্রত্যয়। অন্যদিকে, সামাজিক সংঘসমূহের অনুসৃত নিয়মনীতি স্থায়ী রূপ লাভ করলে সেগুলো প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিগণিত হয়। প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোনো সমাজের অস্তিব কল্পনা করা যায় না। পক্ষান্তরে, সংঘ ছাড়াও যেকোনো সমাজ অনায়াসে চলতে পারে। সম্পত্তি, বিবাহ, ধর্ম এগুলো হচ্ছে অত্যন্ত মৌলিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠন। অন্যদিকে, ক্রিকেট ক্লাব, শ্রমিক সংঘ মূলত প্রতিষ্ঠানের অন্তর্গত এবং এগুলো নৈর্ব্যক্তিক প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠান সমাজের জন্য আবশ্যকীয় উপাদান। যেমন— পরিবার। অন্যদিকে, সংঘ থাকা না থাকার কারণে সমাজের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সংঘ ও প্রতিষ্ঠান সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রত্যয়। উদ্দেশ্য ও কার্যাবলির ভিত্তিতে এদরে মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান ।