উদ্দীপকে উল্লিখিত বাহন অর্থাৎ গণমাধ্যম ছাড়াও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের আরও অনেক বাহন রয়েছে, যেগুলো সমাজের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজ ব্যক্তিকে সমাজ স্বীকৃত রীতিনীতির মাধ্যমে আচরণ করতে বাধ্য করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ছাড়াও আরও অনেক বাহন রয়েছে। যেমন— সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবারের আদর্শ, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, জীবনযাপন পদ্ধতি, রীতিনীতি প্রভৃতি শিশুর মনে স্থায়ী ছাপ ফেলে এবং পরবর্তী সময়ে তার জীবনকে প্রভাবিত করে । কোনো সদস্য বিপথে চলে গেলে পরিবারই তাকে দ্রুত সঠিক পথে নিয়ে আসতে পারে। আবার লোকাচার ও লোকরীতি মানুষের জীবনপ্রণালীকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে । ফলে ব্যক্তি সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণে অভ্যস্ত হয় । সামাজিক নিয়ন্ত্রণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাহন হলো বিদ্যালয় 1 বিদ্যালয়ের প্রাপ্ত শিক্ষা মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দের ভেদাভেদ শেখায় এবং পারিবারিক ও সামাজিক আদর্শ-মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে। এছাড়া ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ধর্মের শিক্ষা দ্বারা মানুষ নৈতিকতা অর্জন করে, যা সমাজজীবনকে সুন্দর করে তোলে । তাছাড়া প্রতিটি সমাজেই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত আইন আছে। এ আইনগুলো কার্যকর করলে এবং অমান্যকারীর শাস্তি বিধান করলে কেউ তা ভঙ্গ করার সাহস পাবে না, যা সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বিবাহ, আচার-অনুষ্ঠান, শিল্পকলা ও সাহিত্য, পৌরাণিক কাহিনি প্রভৃতিও সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যম ছাড়াও উল্লিখিত বাহনগুলো সমাজজীবনকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।