ছক-২-এ সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদান উল্লেখ করা হয়েছে। আর সভ্যতা বিনির্মাণে বস্তুগত সংস্কৃতির অবদান সবচেয়ে বেশি ।
সভ্যতা বলতে বস্তুগত সংস্কৃতির চূড়ান্ত রূপ বা বিকাশকে বোঝায়। আর বস্তুগত সংস্কৃতি হলো মানুষের জীবনপ্রণালির সেইসব উপাদান যা দেখা ও ছোঁয়া যায়। যেমন— ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, পোশাক-পরিচ্ছদ, যন্ত্রপাতি প্রভৃতি। উদ্দীপকের ছক-২-এর উপাদানগুলোও বস্তুগত সংস্কৃতির অংশ। কেননা কুঠার, তবলা ও ভবন মানুষের ব্যবহার্য এমন সব জিনিস যা দৃশ্যমান এবং চাইলেই স্পর্শ করা যায়।
বস্তুগত সংস্কৃতির সমন্বয়ে সভ্যতা গড়ে ওঠে। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের মতে, “আমরা যা করি তাই আমাদের সংস্কৃতি এবং আমাদের যা কিছু আছে তাই সভ্যতা।” এ থেকে বোঝা যায়, সংস্কৃতি মানুষের স্বাভাবিক জীবনপ্রণালি এবং সভ্যতা সেই প্রণালির দৃশ্যমান ও দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রূপ। সংস্কৃতির জন্ম ও টিকে থাকার ওপর ভিত্তি করে সভ্যতা গড়ে ওঠে এবং বিকাশ লাভ করে। অর্থাৎ সভ্যতা বিকাশের বা নির্মাণের পূর্বশর্ত হলো সংস্কৃতি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোনো শহরের রাস্তাঘাট নির্মাণের আগে এ সম্পর্কিত জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। অর্থাৎ বস্তুগত সংস্কৃতি বা সভ্যতা নির্মাণের আগে অবস্তুগত সংস্কৃতির অস্তিত্ব থাকতে হবে।
উপরের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, সভ্যতা বিনির্মাণের জন্য সংস্কৃতির অস্তিত্ব ও ক্রমবিকাশ অপরিহার্য। বস্তুত সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদানই সভ্যতা প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে।