উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ দ্বারা সম্প্রদায় ও দৃশ্যকল্প-২ দ্বারা সমাজকে বোঝানো হয়েছে।
সম্প্রদায় ও সমাজের মধ্যে বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ দেখা যায়, রসুলপুর গ্রামে নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষ বাস করে। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে তাদের জীবনধারায় বেশ পরিবর্তন এসেছে। এসব বৈশিষ্ট্য সমাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সমাজ ও সম্প্রদায় সমাজবিজ্ঞানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও বেশকিছু পার্থক্যও রয়েছে। যেমন— সমাজ হচ্ছে এমন এক জনগোষ্ঠী যারা একটি সাধারণ ঐতিহ্য, প্রথা, রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান এবং জীবনপ্রণালিতে অভ্যস্ত হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে বাস করে। অপরদিকে, সম্প্রদায় হলো একই এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠী যাদের জীবনপ্রণালি একই ধরনের। সমাজ হলো সামাজিক সম্পর্কের জটিল জাল। পক্ষান্তরে সম্প্রদায় হলো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ জীবনযাত্রার অংশীদারি জনগোষ্ঠী। সমাজ হলো বিমূর্ত। কিন্তু সম্প্রদায় অনেকখানি মূর্ত। সমাজের ক্ষেত্রে সম্প্রদায়গত চেতনা অথবা আমরা বোধ বিদ্যমান থাকাতেও পারে, আবার নাও পারে। কিন্তু এমন চেতনা ছাড়া সম্প্রদায় গঠন সম্ভব নয় । সমাজ অপেক্ষাকৃত বৃহৎ। অন্যদিকে, সম্প্রদায় সমাজের চেয়ে আকারে ছোট । সমাজে অভিন্নতা ও বিভিন্নতা উভয়ই বিদ্যমান। কিন্তু সম্প্রদায়ের বিভিন্নতার অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। সমাজ হলো সম্প্রদায়ের পূর্ববর্তী ধাপ। পক্ষান্তরে, সম্প্রদায় হলো সমাজের পরবর্তী ধাপ। সর্বোপরি সমাজ হলো একটি সামগ্রিক বিষয় এবং সম্প্রদায় হলো তার অংশবিশেষ ।
উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায়, মানুষ তার অস্তিত্বের জন্য সমাজ ও সম্প্রদায় সৃষ্টি করে। ফলে এ দুয়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। কিন্তু প্রকৃতি ও কার্যগত দিক থেকে উভয়ের মাঝে কিছু পার্থক্যও বিদ্যমান ।