সংস্কৃতির সাথে সভ্যতার যেসব পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—-
সংজ্ঞাগত পার্থক্য : মানুষের ভাবধারা, বিশ্বাস, নীতিবোধ, আইন, ভাষা এবং মানুষের ব্যবহৃত হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি, এমন কি বেঁচে থাকার জন্য মানুষ যেসব কৌশল অবলম্বন করে সেসবের সমষ্টি হলো মানুষের সংস্কৃতি। অন্যদিকে মানুষ যখন তার কলাকৌশল কিংবা নিজস্ব প্রচেষ্টার দ্বারা এবং প্রয়োজনে বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে একটি সামগ্রিক সমাজজীবন গড়ে তোলে তখন তার বাহ্যিক বস্তুগত প্রতিফলনকে সভ্যতা বলা হয় ।
পরিমাপগত পার্থক্য : সংস্কৃতির উন্নতি বা মানকে সর্বক্ষেত্রে পরিমাপ করা যায় না। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতিকে সহজেই পরিমাপ করা যায় ।
ধারাবাহিকতার পার্থক্য : সংস্কৃতির একটি ক্রমধারাবাহিকতা রয়েছে। সংস্কৃতি কখনই পরাজিত হয় না। অন্যদিকে সভ্যতার ধারাবাহিকতা সাধারণত দেখা যায় না, তাছাড়া তা পরাজিত হয় এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ।
আচরণগত পার্থক্য : সংস্কৃতি হলো মানুষের ভেতরগত আচরণ তাকে লুকিয়ে রাখা যায়। কিন্তু সভ্যতা হলোঁ মানুষের বাহ্যিক আচরণ তাকে লুকিয়ে রাখা যায় না ।
অবস্থাগত পার্থক্য : সংস্কৃতি হচ্ছে খাঁটি হওয়া, রুচিশীল হওয়া, এটি একটি মানসিক অবস্থা। বিপরীত দিকে সভ্যতার অর্থ কোনোকিছু থাকা বা কোনো কিছু অর্জন করা। এটি একটি বাহ্যিক পরিবেশ ।
তুলনাগত পার্থক্য : সংস্কৃতির চাহিদা ও আবেদন তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে সভ্যতার চাহিদা এবং তার আবেদন সংস্কৃতির তুলনায় অনেক বেশি।
তাই বলা যায়, সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও উভয়ের মধ্যে যথেষ্ট মিলও রয়েছে। তাই সংস্কৃতি ও সভ্যতা একে অন্যের পরিপূরক । একটি ছাড়া অন্যটি বিকশিত হতে পারে না ।