ঘটনা-১ ও ঘটনা-২-এ যথাক্রমে সম্প্রদায় ও সংঘ প্রত্যয়কে নির্দেশ করা হয়েছে। এ দুটি প্রত্যয়ের মধ্যে নানাবিধ পার্থক্য রয়েছে। সংঘ বলতে ক্ষুদ্র বা বৃহৎ এমন একটি মানৰ সংগঠনকে বোঝায়, যার সদস্যরা সুনির্দিষ্ট এবং অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য একত্রিত হয়। বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজনে সমবেত প্রচেষ্টাকে সফল করার জন্য সংঘ কিছু নির্দিষ্ট বিধিবিধান মেনে চলে। এসব বিধিবিধান দ্বারা সংঘের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সাধারণত প্রতিটি সংঘের একটি নিজস্ব নাম ও প্রতীক থাকে।
উদ্দীপকের ঘটনা-২-এ মিসেস শাহানা সামাজিক বনায়নের উদ্দেশ্যে আরণ্যক নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তার সংগঠনের যেহেতু একটি উদ্দেশ্য ও নাম আছে সেহেতু এটিকে সংঘ বলা যায়। সংঘ ও সম্প্রদায়ের পার্থক্যসমূহ নিম্নরূপ-
মানুষ জন্মসূত্রে সম্প্রদায়ের সদস্যপদ লাভ করে কিন্তু সংঘের সদস্যরা ঐচ্ছিকভাবে একত্রিত হয়। সংঘ গড়ে ওঠার জন্য নির্দিষ্ট অঞ্চল জরুরি নয় কিন্তু সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা অত্যাবশ্যক। সম্প্রদায় অপেক্ষাকৃত স্থায়ী, পক্ষান্তরে লক্ষ্য অর্জিত হলে সংঘ সংগঠিত নাও থাকতে পারে। সংঘের আইনগত ভিত্তি এবং কার্যকরী পরিষদ থাকলেও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত। সর্বোপরি প্রচলিত রীতি-নীতি ও ঐতিহ্য দ্বারা সম্প্রদায়ের সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয়। অন্যদিকে সংঘের সদস্যদের সাধারণত লিখিত নিয়মকানুন মেনে চলতে হয় । উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সংঘ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, গঠন এবং কার্যকারিতাগত নানাবিধ বৈসাদৃশ্য রয়েছে।