উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি তথা সামাজিকীকরণের মাধ্যমসমূহের ভূমিকা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো :
মানুষের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে সামাজিকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই প্রক্রিয়ায় কোন একক মাধ্যম স্বাভাবিক ভূমিকা পালন করে না। বরং ব্যক্তি জীবনের বিভিন্ন ধাপে আলাদা আলাদা ভূমিকা রাখে। মানুষের সামাজিকীকরণে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জ্ঞাতি সম্পর্ক, সঙ্গীদল ইত্যাদি মাধ্যম ভূমিকা রাখে।
পরিবার একটি শিশুর সামাজিকীকরণে প্রাথমিক ও প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। পারিবারিক পরিবেশেই শিশু তার পিতা-মাতার আচরণ, ধ্যান-ধারণা, মূল্যবোধ ইত্যাদি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়। যার ফলে তার ব্যক্তিত্ব গঠনে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে পরিবার। পাশাপাশি শিশুর খেলার সাথী বা সঙ্গীদল সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঙ্গীদলের সাথে মিথস্ক্রীয়ার মাধ্যমে শিশু সহযোগিতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব ইত্যাদি গুণ অর্জন করে। আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনে সুযোগ পায় যা তার সামাজিকীকরণে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও শিশু যে পরিবারের জন্মগ্রহণ করে সেই পরিবারের ধর্মীয় রীতি-নীতি ও আদর্শ অর্জন করার মাধ্যমে সে ওই ধর্মের অনুসারী হয়ে থাকে, যা তার পরবর্তী জীবনে সামাজিক আচরণে অনেকাংশে ভূমিকা রাখে ।
তাই বলা যায়, সামাজিকীকরণে মাধ্যমসমূহের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।