উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে মানবজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী সাংস্কৃতিক উপাদানটি বসবে।
সামাজিক বিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হচ্ছে সংস্কৃতি। সাধারণ অর্থে, সংস্কৃতি বলতে আমরা নাটক, গান, নৃত্য, আবৃত্তি প্রভৃতি বিনোদনমূলক বিষয়গুলোকে বুঝি। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানে সংস্কৃতি প্রত্যয়টি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ যা কিছু করে তাই সংস্কৃতি। প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে গিয়ে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মানুষ যা কিছু উদ্ভাবন বা আবিষ্কার করেছে তার সবই সংস্কৃতির আওতাভুক্ত। অর্থাৎ- সংস্কৃতি হলো সার্বিক জীবনপ্রণালি। সমাজজীবনের বিভিন্ন উপাদানের ভিত্তিতে সংস্কৃতিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। মূলত যান্ত্রিকতা ও শিল্পকলার বদৌলতে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য যে সমস্ত উপাদান বিদ্যমান তাই বস্তুগত সংস্কৃতি। যেমন- ট্রাক্টর, কল-কারখানার যন্ত্রপাতি, ইট, রড, রাস্তাঘাট প্রভৃতি। অন্যদিকে, সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি। যেমন- ভাষা, সাহিত্য, ধর্ম, বিশ্বাস প্রভৃতি। উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের একপাশে কৃষিপ্রযুক্তি, শিল্পপ্রযুক্তি, নির্মাণ প্রযুক্তি, যোগাযোগ প্রযুক্তি তথা বস্তুগত সংস্কৃতি এবং অপরপাশে ভাষা, সাহিত্য, লোকরীতি, শিল্পকলা তথা অবস্তুগত সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে যা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে একথা স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে '?' চিহ্নিতস্থানে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী সাংস্কৃতিক উপাদানটি বসবে।