তথ্য-২-এ উল্লেখিত উপাদান তথা ভৌগোলিক উপাদান সমাজজীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে।
ভৌগোলিক উপাদান বলতে ওইসব মহাজাগতিক অবস্থা ও প্রপঞ্চকে বোঝায় যা মানবসৃষ্ট নয় এবং নিজস্ব ধারায় পরিবর্তনশীল ও নিয়ন্ত্রিত । সমাজজীবনে এ উপাদানের উল্লেখযোগ্য প্রভাব হলো উৎপাদন ব্যবস্থা, আবাস বা ঘরবাড়ির বৈশিষ্ট্য, পোশাক পরিচ্ছদের ধরন, সামাজিক জীবন প্রভৃতি। উদ্দীপকের তথ্য-২ অনুযায়ী, পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হওয়ায় সেখানকার ঘরবাড়িগুলো কাঠের মতো হালকা উপাদান দিয়ে তৈরি, যা ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাবকে নির্দেশ করে ।
সমাজজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। সভ্যতার উত্থান ও জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্দিষ্ট অঞ্চলের জলবায়ু ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। যেমন— নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের জলবায়ু ফসল উৎপাদনে সহায়ক হওয়ায় এখানে জনসংখ্যার ঘনবসতি পরিলক্ষিত হয়। ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাবেই শীতপ্রধান দেশের ঘরবাড়ি আর নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ঘরবাড়ির ধরনের ভিন্নতা দেখা যায় । একইভাবে কোনো দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থা নির্ভর করে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, মাটি, আলোর প্রাপ্যতা প্রভৃতির ওপর। ভৌগোলিক পরিবেশের এসব উপাদানের ভিন্নতার ফলে নানা ধরনের উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদের ধরনও ভৌগোলিক পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত। যেমন— শীতপ্রধান অঞ্চলে মোটা বা গরম রেশমি কাপড় এবং গ্রীষ্মপ্রধান দেশে হালকা সুতি কাপড় পরার প্রচলন দেখা যায় ।
উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায়, একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীবনযাপন পদ্ধতি, জনসংখ্যার ঘনত্ব, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘরবাড়ির ধরন, অর্থনীতি, রাজনীতিসহ সামগ্রিক সমাজজীবনে ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব অনস্বীকার্য ।