উদ্দীপকে ঘটনা-২ সমাজে প্রভাব বিস্তাকারী অন্যতম উপাদান বংশগতিকে নির্দেশ করে সমাজে বংশগতি উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম । বংশগতি বা জৈবিক প্রভাব বলতে এমন কিছু জৈবিক ও মানসিক গুণকে বোঝায়, যা মানুষ বংশ পরম্পরায় জন্মসূত্রে লাভ করে। মানুষ যেসব দৈহিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য পিতামাতা থেকে জন্মসূত্রে লাভ করে সেগুলো হলো লিঙ্গ, চোখ, চুলের রং, গায়ের রং, চুলের ধরন, দেহের উচ্চতা, প্রতিভা, মেধা, দক্ষতা, পাদর্শিতা ইত্যাদি । উদ্দীপকের ঘটনা-২-এ দেখানো হয়েছে, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিভা, দক্ষতা, রোগব্যাধি ইত্যাদি, যা উপরে আলোচিত বংশগতি উপাদানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। স্বাভাবিকভাবেই সমাজের ক্রমবিকাশে 'বংগতি' উপাদনটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্ণবাদ নৃবিজ্ঞানীরা মনে করেন, কেবল উৎকৃষ্ট নৃগোষ্ঠীর লোকেরাই সমাজ । সভ্যতার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে, বংশগতির ধারায় যারা নিকৃষ্ট তারা সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতিতে তেমন অবদান রাখতে পারে না। নৃবিজ্ঞানী গাল্টনের মতে, প্রতিভা এবং দক্ষতা বংশগতির সূত্রে প্রাপ্ত। মধ্যম মানের ব্যক্তিকে যতই অনুকূল ও উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়া হোক না কেন, সে তার প্রতিভার উন্নতি ঘটিয়ে সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতিতে অবদান রাখতে ব্যর্থ হবে । অন্যদিকে, এটা প্রমাণিত যে, মেধাবী ও প্রতিভাবান ব্যক্তিরা অনেক প্রতিকূল পরিবেশের বাধা-বিপত্তি ডিঙিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আইনস্টাইন, ভারতের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও পরমাণু বিজ্ঞানী এ পি জে আবুল কালাম এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতিতে বংশগতি উপাদানের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।