উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী ভৌগোলিক উপাদানকে ইঙ্গিত করে।
ভৌগোলিক উপাদান বলতে ওইসব মহাজাগতিক অবস্থা ও প্রপঞ্চকে বোঝায়, যা মানবসৃষ্ট নয় এবং নিজস্ব ধারায় পরিবর্তনশীল ও নিয়ন্ত্রিত। যেমন— আবহাওয়া, জলবায়ু, মৃত্তিকা, জলের অবস্থান ও গতিপথ, বনভূমি, সমুদ্র স্রোত প্রভৃতি। সমাজজীবনে ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। উপযুক্ত ভৌগোলিক পরিবেশ মানবজীবন বিকাশের অন্যতম অপরিহার্য শর্ত। সমাজজীবনের যেসব দিকের ওপর ভৌগোলিক পরিবেশ প্রভাব ফেলে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— আবাস ও ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটের বৈশিষ্ট্য, পোশাক-পরিচ্ছদ, মানব প্রকৃতি, ব্যক্তি ও সামাজিক জীবন, রাজনৈতিক সংগঠন ইত্যাদি। উদ্দীপকে আলোচিত বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায়ও উক্ত উপাদানের প্রভাব লক্ষ করা যায় । উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ। নদী ও পাহাড় এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নয়নাভিরাম করার পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এনেছে। এসব বিষয় বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও উপাদানের ইঙ্গিতবহ। এদেশে মানুষের ঘরবাড়ির ধরন, পোশাক-পরিচ্ছদ, যাতায়াত ব্যবস্থা সব কিছুতেই বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায় । যা মূলত বাংলাদেশের ভৌগোলিক উপাদানসমূহের প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের ঘরগুলো বাঁশ ও কাঠের মাঁচার উপর তৈরি হয়। পক্ষান্তরে সমতলের ঘরবাড়ি ইট, সিমেন্ট, রড, বালু ইত্যাদি দিয়ে তৈরি হয়। মূলত ভৌগোলিক পরিবেশের তারতম্যের জন্যই এ ধরনের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। এ থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের সমাজজীবনে বিদ্যমান বহুমাত্রিকতার পেছনে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব বিদ্যমান ।