উক্ত সংগঠনটি তথা পরিবার সমাজ সংস্কারের মূলভিত্তি -প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সমাজ স্বীকৃত জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য মানুষ পরিবার গঠন করে। সন্তানদের ভরণ-পোষণের সাথে তার সামাজিকীকরণের প্রাথমিক দায়িত্ব পরিবারের কর্ণধার তথা পিতামাতার। এ সময় হতেই শিশু অপরের দৃষ্টিতে নিজেকে দেখতে শেখে। শিশুকাল হতেই শিশু সমাজের রীতিনীতি, আচার-ব্যবহার, নিয়মকানুন, অভ্যাস প্রভৃতি পরিবার হতে শিক্ষা লাভ করে। অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ক্ষেত্রেও পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবারের সদস্যরা অর্থ উপার্জনের জন্য ঘরের বাইরে কাজ করে। শুধু তাই নয়, পরিবারকে কেন্দ্র করে এদেশের কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে, যা আমাদের দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পরিবার হলো শিশুর প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র। শিশুকে আদব-কায়দা, চালচলন ও ব্যবহারিক জীবনের খুঁটিনাটি বিষয় শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পরিবার পালন করে থাকে। এমনিভাবে ধর্মীয় শিক্ষার প্রাথমিক রীতিনীতি পরিবারই শিক্ষা দিয়ে থাকে। যার মাধ্যমে শিশর মধ্যে নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত হয়। এছাড়া পরিবার হলো মানসিক যন্ত্রণা নিবারণের কেন্দ্রস্থল। কারণ পরিবার মানুষের আবেগ, আনন্দ-ভালোবাসা, কান্না-বেদনাকে গুরুত্ব দেয়। আবার পরিবার এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়। আর যেহেতু এ প্রজন্ম সৃষ্টির মূলে থাকে পরিবার তাই সম্পত্তির সংরক্ষণ ও উত্তরাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে পরিবার প্রতিটি স্তরে বিশেষ অবদান রাখছে। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, পরিবার নামক মৌল সংগঠনটি সমাজ সংস্কারের অন্যতম মূলভিত্তি।