জ্ঞাতিসম্পর্কের উক্ত ব্যবহার তথা রাজনৈতিক ব্যবহার যোগ্য নেতৃত্ব গঠনের অন্তরায়'— উক্তিটির সাথে আমি একমত ।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জ্ঞাতিসম্পর্ক অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন— স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদ কমিটি প্রভৃতির নেতৃত্ব নির্বাচনে জ্ঞাতিদের সমর্থন সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একইভাবে ইউপি নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত পায় সকল পর্যায়ে জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা নিজের গোষ্ঠীভুক্ত প্রার্থীকে বিভিন্নভাবে সমর্থন প্রদান করে। আর উক্ত গোষ্ঠী যদি অপেক্ষাকৃত বড় ধরনের হয় তবে যত দোষ-ত্রুটি থাকুক না কেন, উক্ত প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তবে এ পরিস্থিতি যোগ্য নেতৃত্ব গঠনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। যেমনটি উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে।
দেখা যায় উদ্দীপকের, সজল সাহেবের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের অভিযোগ আছে । এজন্য তিনি এলাকাবাসীর নিকট ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত নন। তবু তার দৃঢ় বিশ্বাস, টাকা এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রভাব খাটিয়ে তিনি সামনের ইউপি নির্বাচনে জিতবেন। উক্ত বিশ্বাস যদি বাস্তবে পরিণত হয় তবে তার এলাকার মানুষ যোগ্য নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হবে। কেননা তিনি একজন মাদক চোরা চালানকারী। আর এ সত্ত্বেও নিজের জ্ঞাতিগোষ্ঠীর প্রভাব খাটিয়ে যদি তিনি ইউপি চেয়ারম্যান হয়ে যান, তবে জ্ঞাতিসম্পর্কের এ রাজনৈতিক ভূমিকা হবে যোগ্য নেতৃত্ব গঠনের অন্তরায়।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জ্ঞাতিদের ভূমিকা সবসময় সমাজের জন্য ইতিবাচক হয় না।