সামাজিক নিয়ন্ত্রণে পরিবারের উক্ত কাজটি তথা সামাজিকীকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
একজন মানুষকে সমাজে বসবাস করার উপযুক্ত রীতি-নীতি, আচার-আচরণ অনুসারে গড়ে তোলা এবং সমাজ স্বীকৃত রীতি-নীতির মাধ্যমে উপর্যুক্ত আচরণ করতে বাধ্য করাই হচ্ছে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ। আবার সামাজিকীকরণ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সমাজে কর্তব্য সম্পাদনকারী এবং সমাজের বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণকারী সদস্যেরূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। সামাজিকীকরণ ব্যক্তিকে সামাজিক বিভিন্ন কাজকর্মে অংশগ্রহণকারী হিসেবে গড়ে তুলে এবং সমাজের আদর্শ ও মূল্যবোধ গ্রহণে তাকে প্রবৃত্ত করে।
সামাজিকীকরণের মূল্যবোধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিরা সমাজে প্রচলিত প্রথা, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, আচার আচরণ তথা সমগ্র সমাজের সাথে সঙ্গতি সাধনের উপায় এবং ব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। আর এর মাধ্যমে এসে সমাজ ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য বিধানে সক্ষম হয়। যার ফলে ব্যক্তি নিজের জন্য অসম্মানজনক বা সমাজের জন্য ক্ষতিকর কোন কাজ করতে উৎসাহী হয় না। এছাড়াও ব্যক্তি যদি পুরোপুরি সামাজিক হয় তবে সে সমাজের গুরুত্ব ভালোভাবে বুঝতে শেখে এবং ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে সমাজের স্বার্থকে স্থান দেয়। যার ফলে সমাজের নিয়ন্ত্রণের কাজ সহজ হয়। ফলশ্রুতিতে মানুষ সুন্দরভাবে এক অপরের সাথে মিলেমিশে বসবাস করতে পারে।
তাই বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে পরিবারের সামাজিকীকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।