হ্যাঁ আমি মনে করি, উদ্দীপকে প্রতিফলিত জ্ঞাতিসম্পর্কের অর্থনৈতিক ভূমিকা সমাজের জন্য ইতিবাচক। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে জ্ঞ্যাতিসম্পর্ক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জ্ঞাতি সম্পর্ক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্দীপকের জামাল সাহেবের চাচা মেয়ের বিয়ের অর্থসংস্থানের জন্য জমি বিক্রি করতে চাইলে তিনি তা কিনে নেন। জামাল সাহেবের কাছে জ্ঞাতি সম্পর্কের অর্থনৈতিক ভূমিকাকে নির্দেশ করে।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে জ্ঞাতিসম্পর্কের বহুমুখী ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়। যেমন– জমি হস্তান্তর, ঋণ প্রদান, কৃষিতে সহযোগিতায় প্রবৃত্তি ক্ষেত্রে ব্যক্তি জ্ঞাতি সহযোগিতা সবার আগে প্রত্যাশা করে। আবার সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয়, জমি বর্গা দেওয়ার ক্ষেত্রে জ্ঞাতিদেরকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। কারণ জ্ঞাতির কাছে জমি বিক্রি করলে তা পুনরায় ফেরত পাওয়ার আশা থাকে। এছাড়া উদ্দীপকের শেষাংশের মতো আপদকালীন সময়ও জ্ঞাতিরাই সবার আগে এগিয়ে আসে। এ ধরনের সহযোগিতার ফলে জ্ঞাতিদের সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়, যা সমাজের উপর নিঃসন্দেহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ সুষ্ঠু সমাজ গড়ে তোলার জন্য সমাজে সদস্যদের পারস্পরিক বন্ধন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ সমাজের অধিকাংশ সদস্য যেহেতু কোনো না কোনে ভাবে জ্ঞাতিদের বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, সেহেতু তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত ভাবে সমাজের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে প্রতিফলিত অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জ্ঞাতিদের ভূমিকা তাদের মধ্যকার ঐক্য ও সংহতি বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।