সমাজজীবনে সামাজিক সম্পর্ক নির্ণয়ে উক্ত বিষয় অর্থাৎ, জ্ঞাতি সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
সমাজজীবনে জ্ঞাতিরা সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার জন্য শিশুকে প্রেরণা দিয়ে থাকে। জ্ঞাতিরাই শিশুকে পারিবারিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলে। জ্ঞাতিদের হাতেই সামাজিকীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়।
এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক যোগানের একমাত্র বাহন হচ্ছে ভূমি। ভূমি ক্রয়-বিক্রয়, বর্গা দেওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে জ্ঞাতিদের মধ্যে লেনদেন এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জমি ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তর সাধারণত জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যেই হয়ে থাকে। কেননা জ্ঞাতিগোষ্ঠীর কাছে জমি বিক্রয় করলে তা পুনরায় ফেরত পাওয়ার আশা থাকে। টাকা-পয়সা হাওলাত ও ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সাহায্য পাওয়া যায়। গ্রামের কৃষক পরিবারের মধ্যে অনেকেরই কৃষি উপকরণ, যেমন- বলদ, লাঙল, জোয়াল, মই ইত্যাদি থাকে না। এক্ষেত্রে তারা এগুলো জ্ঞাতিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে থাকে। শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও জ্ঞাতিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। তাছাড়া তারা তুলনামূলকভাবে বিশ্বস্ত হয়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্ঞাতিদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন নির্বাচনের সময় দেখা যায়, যে প্রার্থীর জ্ঞাতিগোষ্ঠী বেশি তিনি সহজে জয় লাভ করেন। অনেকেই ক্ষমতা পাওয়ার আশায় এবং অধিক সমর্থন লাভের আশায় বড় বড় জ্ঞাতিগোষ্ঠীদের মধ্যে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে জ্ঞাতি সম্পর্ক বৃদ্ধি করে থাকেন।
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের সমাজজীবনে জ্ঞাতি সম্পর্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।