মানব সমাজে উক্ত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ পরিবার বহুমাত্রিক কার্যাবলি সম্পাদন করে- আমি এ উক্তিটির সাথে একমত পোষণ করি।
পরিবার সমাজের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান তার বহুমুখী কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। এক সময় পরিবারের কার্যাবলি সন্তান জন্মদান ও লালন-পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এর পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবার এখনও সদস্যদের জৈবিক কাজ সম্পাদন করছে। এর ফলে নর-নারীর যৌন আকাঙ্ক্ষা পরিবারের মাধ্যমে সমাজস্বীকৃত পন্থায় পূরণ হচ্ছে। পরিবার এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কাজও সম্পাদন করছে। পরিবারের নারী-পুরুষ এখন ভিন্ন ভিন্ন উপার্জনধর্মী অর্থনৈতিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এভাবে তারা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলতা অর্জন করছে।
পরিবার থেকে শিশু ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করে। এ শিক্ষার ফলে শিশু নিজেকে নৈতিক গুণ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। এছাড়া পরিবার শিক্ষামূলক কাজও করে। একটি শিশুকে সমাজের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারই দেয়। মানসিক যাতনা নিবারণেও পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। অনেক সমাজবিজ্ঞানী মনে করেন, অন্য কোনো কারণে না হোক, মনস্তাত্ত্বিক কারণে হলেও মানব সমাজে পরিবার টিকে থাকবে। এছাড়াও পরিবার রাজনৈতিক, চিত্তবিনোদনমূলক, রক্ষণাবেক্ষণসহ বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে।
উপরের আলোচনার ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, মানব সমাজের আদিম প্রতিষ্ঠান তথা পরিবার বহুমাত্রিক কার্যাবলি সম্পাদন করে।