ছক-১ এ নির্দেশিত বিষয়টি হলো বহুকারণবাদ যা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থনযোগ্য নয়।
বহুকারণবাদ অনুযায়ী একটি কার্যের একাধিক কারণ থাকতে পারে। অর্থাৎ একই কার্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণ দ্বারা সংঘটিত হতে পারে। বহুকারণবাদ বিজ্ঞানসম্মত কোনো মতবাদ নয়। বহুকারণবাদীরা কারণকে ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষভাবে, কিন্তু কার্যকে ব্যাখ্যা করেছেন সার্বিকভাবে। আমরা যদি কার্য ও কারণ উভয়কে একই দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করি অর্থাৎ উভয়কে বিশেষভাবে অথবা উভয়কে সার্বিকভাবে বিচার করি, তাহলে দেখা যায় বহুকারণবাদ কোনো যথার্থ মতবাদ নয়। যেমন- মৃত্যু নামক কার্যটির সাধারণ কারণ হলো হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া। দুর্ঘটনা, বিষপান, গুলিবিদ্ধ হওয়া কিংবা কোনো রোগ শোক যেভাবেই মৃত্যু হোক না কেন প্রত্যেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুর মূল কারণ একটি, আর তা হলো হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া।
বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা অনুযায়ী কারণ (Cause) হলো কোনো কার্যের অব্যবহিত পূর্ববর্তী, অপরিবর্তনীয় ও শর্তহীন ঘটনা বা ঘটনাসমূহের সমষ্টি। কিন্তু বহুকারণবাদ অনুযায়ী কোনো কার্যের কারণ সর্বদা পরিবর্তনশীল, যা কারণের বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞার সাথে অসংগতিপূর্ণ।
উদ্দীপকের ছক-১ এ বর্ণিত 'ফসল নষ্ট হওয়া' একটি কার্য। এর কারণ হিসেবে বন্যা, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বন্যার ফলে ফসল নষ্ট হওয়া এবং ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ফসল নষ্ট হওয়া এক রকম নয়। প্রত্যেকটি কারণ যেমন ভিন্ন তেমনি তার ফলাফলও ভিন্ন। উল্লেখিত কারণগুলোর দ্বারা সৃষ্ট কার্যও প্রত্যেকে প্রত্যেকের থেকে আলাদা।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বহুকারণবাদ বিষয়টি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্যনয়। তবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারিক মূল্য অস্বীকার করা যায় না।