পাঠ-১ নিরীক্ষণ পদ্ধতি এবং পাঠ-২ পরীক্ষণ পদ্ধতিকে নির্দেশ করে। যেখানে পরীক্ষণ পদ্ধতি আমাদেরকে নিশ্চিত জ্ঞান দিতে পারে। কিন্তু নিরীক্ষণ পদ্ধতিতে সেটা সম্ভব নয়।
নিরীক্ষণ হচ্ছে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো কিছুকে পদ্ধতিগতভাবে প্রত্যক্ষণ করা। অন্যদিকে পরীক্ষণ হচ্ছে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কৃত্রিম পরিবেশে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে যন্ত্রপাতির সাহায্যে কোনো কিছু প্রত্যক্ষণ করা। তাই পরীক্ষণের থেকে নিরীক্ষণের পরিধি ব্যাপক। কিন্তু পরীক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত সত্য লাভ করা যায়। যেটা নিরীক্ষণে সম্ভব নয়। আবার নিরীক্ষণ যেকোনো পরিবশে করা যায় বলে নিরীক্ষণ অপেক্ষাকৃত সহজ ও সহজলভ্য। কিন্তু পরীক্ষণে পরিবেশ তৈরি করে নিতে হয় বলে এটা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। পরীক্ষণের সাহায্যে ইচ্ছামতো একই ঘটনাকে বার বার পরীক্ষা করা যায়, কিন্তু নিরীক্ষণের বেলায় তা সম্ভব না।
পাঠ-১ এ সারা বিশ্বের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। ২০১৬ সালে নেপালে মারাত্মক ভূমিকম্প হয় যাতে দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এটা নিরীক্ষণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আবার পাঠ-২ এ ভারতের মুরগির খামারগুলোতে বার্ডফ্লু রোগের আক্রমণের কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন যে বার্ডফ্লু একটি মারাত্মক ক্ষতিকর ভাইরাস, যা গবেষণার জন্য পরীক্ষণের প্রয়োজন। তাই এটি পরীক্ষণের একটা দৃষ্টান্ত এবং এর থেকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত। নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ উভয়ই এক ধরনের প্রত্যক্ষণ। কিন্তু পরীক্ষণ কৃত্রিমভাবে সম্পন্ন করা হয়। যেখানে নিরীক্ষণ করা হয় প্রাকৃতিক পরিবেশে। পাঠ-১ এ একইভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশেই সমস্ত কিছু নিরীক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে পাঠ-২ এ বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাগারে তাদের গবেষণা বা পরীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।