দৃশ্যকল্প-১ এ দৃষ্টান্তের অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি এবং দৃশ্যকল্প-২ এ ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ অনুপপত্তি ঘটেছে। এদের আন্তঃসম্পর্ক নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে যেসব দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণ করা দরকার সেসব দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণ না করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে যে অনুপপত্তি ঘটে তাকে দৃষ্টান্তের অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি (Fallacy of Non-Observation of Instances) বলে। যেমন: একজন লোক ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে না, কারণ যারা ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে তারাও মৃত্যুবরণ করে। এক্ষেত্রে দৃষ্টান্তের অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা প্রয়োজনীয় দৃষ্টান্ত অনিরীক্ষিত রেখেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি কোনো বস্তু বা ঘটনাকে যেভাবে নিরীক্ষণ করার কথা সেভাবে নিরীক্ষণ না করে যদি ভিন্নভাবে নিরীক্ষণ করে তখন তাকে ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ (Individual Mal-Observation) বলে। যেমন: অন্ধকারে গোরস্থানের খুঁটিকে ভূত মনে করা।
দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যাচ্ছে, শহরের কোনো মানুষ অশিক্ষিত না। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যে, সকল শহরবাসীই শিক্ষিত। এটা দৃষ্টান্তের অনিরীক্ষণজনিত অনুপপত্তির একটি উদাহরণ। কারণ এক্ষেত্রে শহরের অশিক্ষিত মানুষগুলো নিরীক্ষণের বাইরে থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প ২ এ অন্ধকার রাতে খেলনা সাপকে আসল সাপ মনে করে কেউ ভয়ে চিৎকার দিল। এটি ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণের একটি দৃষ্টান্ত।