উদ্দীপকে ঘটনা-১ এর মাধ্যমে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ঘটনা-২ এর মাধ্যমে কার্যকারণ নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম হলো আরোহের রূপগত ভিত্তি। অর্থাৎ রূপগত সত্যতা অর্জনের জন্য আরোহ বিজ্ঞানের দুটি প্রতিষ্ঠিত নিয়ম প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে। আরোহ অনুমানে এই নিয়মগুলোর ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত স্থাপন করে। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এমন একটি পরম' নিয়ম যার সংজ্ঞা দেখা যায় না। তবে নিয়মটিকে নানাভাবে ব্যক্ত করা যায়। যেমন- প্রকৃতি নিয়মানুবর্তিতা অর্থ প্রকৃতি নিজের পুনরাবৃত্তি করে ভবিষ্যৎ অতীতের মতোই হবে ইত্যাদি। এই সত্যের মধ্য দিয়ে এটাই প্রতীয়মান হয়, প্রকৃতি একই রূপ পরিস্থিতিতে সবসময় একইভাবে আচরণ করে। যেসব অবস্থায় অতীতে ভূমিকম্প হয়েছে, সেসব অবস্থায় ভবিষ্যতেও ভূমিকম্প হবে। প্রকৃতিতে সবসময় নিয়মের রাজত্ব বিরাজ করে। অপরদিকে কার্যকারণ হলো প্রতিটি ঘটনাই কোনো একটি কারণ থেকে উদ্ভূত। যুক্তিবিদ মিলের মতে, যে ঘটনার শুরু আছে তার একটি কারণ থাকতে বাধ্য। বেনের মতে, প্রতিটি ঘটনা তার পূর্বের কোনো ঘটনার সাথে এমনভাবে সম্পর্কযুক্ত যে পূর্ব ঘটনা ঘটলে তবে এ ঘটনা ঘটে এবং সেটি না ঘটলে এ ঘটনাটি ঘটে না। কারণ ও কার্যের মধ্যে একটি অনিবার্য সম্পর্ক বিদ্যমান। কারণের মধ্যে এমন একটি শক্তি আছে যা কার্যকে উৎপন্ন করতে বাধ্য করে। যখনই কোনো কারণ সংঘটিত হয়, তখনই তা থেকে কোনো একটি কাজের উদ্ভব ঘটে। উদ্দীপকের ঘটনা ১ ও ঘটনা-২ এ উল্লিখিত বিষয়গুলো প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্ককে নির্দেশ করে। এ দুটি নিয়ম হলো আরোহের রূপগত বা আকারগত ভিত্তি। আর এই নিয়মগুলোর ওপর নির্ভর করে কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে আরোহ অনুমান একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে, যা একটি সংশ্লেষক বাক্য এবং বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য হয়। কি কি কতো পরিশেষে বলা যায়, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নীতি উভয়ই আরোহের দুটি স্বতঃসিদ্ধ নীতি। এ দুটি নীতির ওপর নির্ভর করে আরোহের আকারগত ভিত্তি গড়ে ওঠে। তাই আরোহের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই দুটি নীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।