উদ্দীপকে উল্লিখিত ধীরস্থিরভাবে জ্ঞানার্জন নিরীক্ষণের ইঙ্গিত প্রদান করে। আর গবেষণাগারে যন্ত্রপাতির সাহায্যে জ্ঞানার্জন পরীক্ষণের ইঙ্গিত প্রদান করে। নিচে এ দুটি বিষয়ের পার্থক্য দেখানো হলো-
১. কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রাকৃতিক ঘটনাবলি প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রত্যক্ষণ করার নামই নিরীক্ষণ। অন্যদিকে, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কৃত্রিম পরিবেশে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত ঘটনাবলি প্রত্যক্ষণ করা হলো পরীক্ষণ।
২. নিরীক্ষণের ঘটনা যেমন প্রাকৃতিক হয়ে থাকে, তেমনি নিরীক্ষণের পরিবেশও প্রাকৃতিক হয়ে থাকে। অন্যদিকে, পরীক্ষণের ঘটনা যেমন কৃত্রিম তেমনি পরিবেশও কৃত্রিম ।
৩. নিরীক্ষণে কোনো ব্যক্তিগত পরিবর্তন সম্ভব নয়। কেননা এটি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে, পরীক্ষণের ক্ষেত্রে ঘটনা ও পরিবেশ উভয়ই যেহেতু কৃত্রিম, তাই ব্যক্তি ইচ্ছা করলে পরীক্ষণ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারে। ৪. নিরীক্ষণ একটি অনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি। প্রকৃতিকে যেহেতু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তাই নিরীক্ষণকেও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অন্যদিকে পরীক্ষণ একটি নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি। পরীক্ষণের ঘটনা ও পরিবেশ উভয়ই নিয়ন্ত্রিতI
৫. নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে আমরা কার্য থেকে কারণে এবং কারণ থেকে কার্যে গমন করতে পারি। অন্যদিকে, পরীক্ষণে আমরা কারণ থেকে কার্যে যেতে পারি; কিন্তু কার্য উৎপাদনের পর কারণে যেতে পারি না।
সুতরাং দেখা যায়, নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য - রয়েছে। তবে এদের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও এর উভয়ই আরোহের বস্তুগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।