দৃশ্যকল্প-১ এর মাধ্যমে নিরীক্ষণ এবং দৃশ্যকল্প-২ এর মাধ্যমে পরীক্ষণ পদ্ধতি নির্দেশিত হয়েছে। নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণের মধ্যে বিভিন্ন পার্থক্য বিদ্যমান।
বিভিন্ন ঘটনাবলির উদ্দেশ্যমূলক প্রত্যক্ষণই হলো নিরীক্ষণ। এটি প্রাকৃতিক পরিবেশে সম্পন্ন হয়। তাই বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কোনো বস্তু বা ঘটনাকে প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রত্যক্ষণ করাই হলো নিরীক্ষণ। দৃশ্যকল্প-১ এ যেহেতু একজন ব্যক্তি প্রাকৃতিক পরিবেশে একটি বিষয়কে প্রত্যক্ষ করেছে, তাই এটির মাধ্যমে নিরীক্ষণ নির্দেশিত হয়েছে। অপরপক্ষে, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত ঘটনাবলি কৃত্রিম পরিবেশে প্রত্যক্ষ করার নামই হলো পরীক্ষণ। এক্ষেত্রে ঘটনা ও পরিবেশ উভয়ই কৃত্রিম। দৃশ্যকল্প-২ এ ফাহিম বিজ্ঞানের ব্যবহারিক ক্লাসে দেখল, পদার্থ ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন দ্বারা গঠিত। অর্থাৎ এক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত ঘটনা কৃত্রিম পরিবেশেই সম্পন্ন হয়েছে। তাই দৃশ্যকল্প-২ এর মাধ্যমে পরীক্ষণ নির্দেশিত হয়েছে।
নিরীক্ষণের ঘটনা ও পরিবেশ উভয়ই প্রাকৃতিক বিধায় এটি একটি নির্ভরশীল পদ্ধতি। নিরীক্ষণকে ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই নিরীক্ষণের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয়ে থাকে। অপরপক্ষে, পরীক্ষণের ঘটনা পরীক্ষকের ইচ্ছার অধীন। তাই পরীক্ষক ইচ্ছা করলে বারবার ঘটনা উৎপন্ন করতে পারেন। পরীক্ষণের ঘটনা যেহেতু বারবার উৎপন্ন করা যায়, তাই এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা দেওয়া যায়। পাশাপাশি নিরীক্ষণের পরিধি বিস্তৃত। কিন্তু অনেক প্রাকৃতিক ঘটনা রয়েছে যেখানে পরীক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় না। তাই নিরীক্ষণের তুলনায় পরীক্ষণের পরিধি সীমিত।
পরিশেষে বলা যায় যে, নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। তবে নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ উভয়ই আরোহের বস্তুগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।