দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ এর মাধ্যমে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে। আর কোনো একটি ঘটনার কারণের মধ্যে অনেকগুলো শর্ত নিহিত থাকে।
দৃশ্যকল্প-১-এ উপস্থাপন করা হয়েছে যে, 'পানি উত্তপ্ত করলে তা বাষ্পে পরিণত হয়।' এখানে কারণ ও কার্যের মধ্যে আবশ্যিক সম্পর্ক উপস্থাপিত হয়েছে। কার্যকারণ নিয়ম অনুযায়ী কারণ ও কার্যের মধ্যে আবশ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। কারণই কার্যকে সংঘটিত করে। আর কারণ থাকে আগে এবং কার্য থাকে কারণের পরে। কোনো কার্যের কারণ একটি। কিন্তু কোনো একটি কারণের মধ্যে অনেকগুলো শর্ত থাকতে পারে। শর্ত যেমন সদর্থক হতে পারে তেমনি নঞর্থকও হতে পারে। তবে সকল প্রকার শর্তের সমষ্টি হলো কারণ। কারণকে আবার আবশ্যিক ও পর্যাপ্ত শর্তের দিক থেকেও বিবেচনা করা হয়। যে শর্তের উপস্থিতিতে ঘটনা উপস্থিত থাকে তাকে আবশ্যিক শর্ত বলে। আর যেসব শর্তের উপস্থিতিতে কোনো ঘটনা অবশ্যই ঘটবে তাকে পর্যাপ্ত শর্ত বলা হয়। শর্ত যে প্রকারের হোক না কেনো সকল প্রকার শর্তের সমষ্টি হলো কারণ। আর কারণ থাকে আগে এবং কার্য থাকে কারণের পরে। এভাবে কারণ ও কার্য আবশ্যিকভাবে সম্পর্কযুক্ত।
অপরপক্ষে, দৃশ্যকল্প-২-এ উপস্থাপন করা হয়েছে যে, কোনো এলাকায় ভালো বৃষ্টিপাতের পর কৃষক ভালো বীজ বপন করেছেন, ভালোভাবে পরিচর্যা করেছেন এবং সময়মতো ফসল সংগ্রহ করেছেন। এর ফলে কৃষক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি লাভ করেছেন। এখানে কৃষকের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার প্রতিটি ঘটনাই হলো এক একটি শর্ত। কারণ একটি একক বিষয়, কোনো কার্যের পূর্ববর্তী, অপরিবর্তনীয় ও অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা হলো ওই ঘটনার কারণ। আর কারণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ঘটনা হলো এক একটি শর্ত। তাই কারণ একটি হলেও সেখানে অনেকগুলো শর্ত থাকতে পারে। শর্ত যেমন সদর্থক হতে পারে, তেমনি নঞর্থকও হতে পারে। তবে সদর্থক বা নঞর্থক যাই হোক না কেন সকল প্রকার শর্তের সমষ্টি হলো কারণ। কোনো কার্যের কারণের মধ্যে যতগুলো শর্ত থাকে সেগুলো কারণের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে কার্যের পূর্বেই অবস্থান করে।