দৃশ্যপট-১ এ আরোহের আকারগত ভিত্তির প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ব্যক্ত হয়েছে। নিচে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিটি বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি আরোহের আকারগত ভিত্তির অন্যতম অংশ। আরোহ অনুমানে বিশেষ থেকে সার্বিকে গমনের ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এটি আরোহের একটি স্বতঃসিদ্ধ নীতি। তাই এককথায় এর সংজ্ঞা দেওয়া যায় না । যুক্তিবিদদের মতে, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির প্রকৃতি হচ্ছে প্রকৃতি নিয়মের উপাসক, প্রকৃতির রাজ্যে সর্বত্র একই রূপ বিরাজ করে, প্রকৃতি ইতিহাসের অনুসারী ইত্যাদি। অর্থাৎ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি অনুসারে প্রকৃতি একই অবস্থায় সবসময় একই আচরণ করবে। অনেক সময় এ নীতিকে নঞর্থকভাবে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এটিও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির শৃঙ্খলাকে প্রকাশ করে। যেমন- প্রকৃতিতে খামখেয়ালির কোনো স্থান নেই, প্রকৃতি অভিন্ন অবস্থায় ভিন্নরূপ আচরণ করে না ইত্যাদি। তাই প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা অনুযায়ী প্রকৃতির সর্বত্র একই নিয়ম কার্যকর এবং একই রূপ বিরাজমান।
উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১ এ অনিক পাপনকে বললো, “এ বছরের মতো আগামী বছরও যদি একই আবহাওয়া থাকে তাহলে আগামী বছরও প্রচুর শীত পড়বে।” অনিক এর দ্বারা প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির কথাই ব্যক্ত করেছেন। অর্থাৎ যে কারণ ও অবস্থায় এ বছর শীত পড়েছে, ঠিক একই কারণ ও অবস্থায় পরের বছরও শীত পড়বে। আর আবহাওয়া ও শীত হলো প্রকৃতির একটি অংশ। তাই একই আবহাওয়া ও প্রচুর শীত পড়ার সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার ভিত্তি হলো প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি।
আলোচনা শেষে বলা যায়, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি অনুসারে প্রকৃতি সব সময় একই আচরণ করবে। এখানে ব্যতিক্রমের কোনো সুযোগ নেই।