'উদ্দীপক-১' এর মাধ্যমে সাবেকী যুক্তিবিদ্যা এবং 'উদ্দীপক-২'-এর মাধ্যমে প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে।
'উদ্দীপক-১'-এ দেখা যাচ্ছে যে, এখানে সাধারণ ভাষায় লিখে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়ছে। তাই এটি সাবেকী যুক্তিবিদ্যার ধারণাকে নির্দেশ করছে। কেননা যুক্তিবিদ্যার যে শাখায় সাধারণ ভাষায় লিখে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় সেটি হলো সাবেকী যুক্তিবিদ্যা। এখানে প্রতীকের পরিবর্তে সাধারণ ভাষার মাধ্যমে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। তবে সাবেকী যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের ব্যবহার একেবারে অনুপস্থিত নয়। এখানে ব্যবহৃত যুক্তিবাক্য ও পদের পরিবর্তে বর্ণ প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। তাই সাবেকী যুক্তিবিদ্যায় খুব অল্প পরিসরে হলেও প্রতীকের ব্যবহার ছিল। তবে প্রতীকী যুক্তিবিদ্যায় যেভাবে সহজে ও অনেকটা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে যুক্তির বৈধতা নির্ণয় করা যায় তেমন কোনো সুযোগ সাবেকী যুক্তিবিদ্যায় নেই।
অপরপক্ষে, 'উদ্দীপক-২'-এ দেখা যাচ্ছে যে, এখানে সাধারণ ভাষার পরিবর্তে প্রতীক ব্যবহার করে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা জানি, প্রতীকী যুক্তিবিদ্যায় সাধারণ ভাষার পরিবর্তে প্রতীক ব্যবহার করে যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা নির্ণয় করা হয়। তাই, 'উদ্দীপক-২'-এর মাধ্যমে প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার ধারণার নির্দেশ পাওয়া যায়। সাবেকী যুক্তিবিদ্যার তুলনায় প্রতীকী যুক্তিবিদ্যায় অনেক সহজে ও কম সময়ে যুক্তির বৈধতা নির্ণয় করা যায়। প্রতীকী যুক্তিবিদ্যায় সহজে যুক্তির আকার নির্ধারণ করা যায়। সাবেকী যুক্তিবিদ্যায় বিভিন্ন ভাষাগত সমস্যা রয়েছে যা প্রতীকী যুক্তিবিদ্যায় নেই। বিভিন্ন জটিল যুক্তির বৈধতা নির্ণয় সাবেকী যুক্তিবিদ্যায় খুব কষ্টসাধ্য হলেও প্রতীকী যুক্তিবিদ্যায় খুব সহজে এসব যুক্তির বৈধতা নির্ণয় করা যায়।
পরিশেষে বলা যায় যে, সাবেকী যুক্তিবিদ্যা ও প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য আছে। তবে সাবেকী যুক্তিবিদ্যা ও প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়। সাবেকী যুক্তিবিদ্যার একটি উন্নত ও পরিমার্জিত রূপ হলো প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা।