উদ্দীপকের দ্বিতীয় বাক্যটিতে যে গুণগুলোর উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে।
উপলক্ষণ বলতে বিধেয়কের এমন একটি শ্রেণিবিভাগকে বোঝায় যা বিভেদক লক্ষণ থেকে অনুমিত বা নিঃসৃত হয়। অর্থাৎ, উপলক্ষণ হলো কোনো পদের এমন গুণ যা কোনো পদের অংশ নয়, কিন্তু পদটির জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃত হয়। যেমন: 'চিন্তাশীলতা' গুণটি 'মানুষ' পদের উপলক্ষণ। কেননা ঐ গুণটি 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ 'বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। উদ্দীপকের দ্বিতীয় বাক্যটিতে 'বিচক্ষণ' এবং 'মেধাবী' নামে যে গুণের উল্লেখ আছে তার দ্বারা উপলক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। গুণ দুটি 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ 'বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে নিঃসৃত হয় বলে এগুলো 'মানুষ' পদের উপলক্ষণ।
অবান্তর লক্ষণ হলো কোনো পদের এমন গুণ যা কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয়; আবার পদটির জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃতও হয় না। অর্থাৎ, অবান্তর লক্ষণ বলতে জাত্যর্থের বাইরের কোনো গুণকে বোঝায়। যেমন: 'শান্তিপ্রিয়' গুণটি 'মানুষ' পদের জাত্যর্থের বাইরের একটি গুণ। তাই 'শান্তিপ্রিয়' গুণটি 'মানুষ' পদের অবান্তর লক্ষণ। উদ্দীপকের দ্বিতীয় বাক্যে 'মিতভাষী' ও 'হাস্যোজ্জ্বল' বলে যে দুটি গুণের উল্লেখ করা হয়েছে তা অবান্তর লক্ষণ। কেননা ঐ গুণ দুটি 'মানুষ' পদের জাত্যর্থের অংশও নয়, আবার জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও নয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের দ্বিতীয় বাক্যটিতে যে গুণগুলোর উল্লেখ করা হয়েছে তা বিধেয়ক হিসেবে উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণ।