প্রিয়ন্তীর 'হাস্যপ্রিয়' গুণটি হলো অবান্তর লক্ষণ। নিচে অবান্তর লক্ষণের বিভিন্ন প্রকার উল্লেখ করা হলো—
যে গুণ বা গুণসমষ্টি কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয়, কিংবা জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে বেরিয়েও আসে না, তা-ই অবান্তর লক্ষণ। যেমন- মানুষের 'সংগীতপ্রিয়তা', 'হাস্যপ্রিয়তা' গুণগুলো হলো অবান্তর লক্ষণ। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, প্রিয়ন্তী একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। সে বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন ও সদা হাস্যপ্রিয়। তার এ 'হাস্যপ্রিয়' গুণটি জাত্যর্থের অংশ নয়, কিংবা জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে বেরিয়েও আসেনি। এ কারণে তার এ গুণটি অবান্তর লক্ষণ ।
অবান্তর লক্ষণকে চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা—ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ, ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ, শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ ও শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। যে অবান্তর লক্ষণ কোনো শ্রেণির ক্ষেত্রে সব সময় উপস্থিত থাকে, তাকে শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। অন্যদিকে যে অবান্তর লক্ষণ কোনো শ্রেণির ক্ষেত্রে কখনও উপস্থিত থাকে আবার কখনও বা উপস্থিত থাকে না, তাকে শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলো সেই অবান্তর লক্ষণ যা কোনো ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে সব সময় উপস্থিত থাকে। অন্যদিকে যে অবান্তর লক্ষণ কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে কখনও উপস্থিত থাকে আবার কখনও উপস্থিত থাকে না তাকে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। উদ্দীপকের প্রিয়ন্তীর 'হাস্যপ্রিয়' গুণটি হলো ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ ।
পরিশেষে বলা যায়, বিধেয়কের একটি উল্লেখযোগ্য প্রকরণ হলো অবান্তর লক্ষণ। যার চারটি প্রকারভেদ রয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত দৃষ্টান্তে এর একটি প্রকরণ পরিলক্ষিত হয়।