নীরব ও বর্ষণের বক্তব্যে যে দু'ধরনের উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণের উল্লেখ রয়েছে তা হলো যথাক্রমে জাতিগত উপলক্ষণ ও ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।যে উপলক্ষণ কোনো পদের আসন্নতম জাতিসূচক জাত্যর্থের অংশ থেকে নিঃসৃত হয় তাকে জাতিগত উপলক্ষণ বলে। যেমন— ক্ষুধা, পিপাসা, মৃত্যু মানুষ পদের জাতিগত উপলক্ষণ। অন্যদিকে, যে অবান্তর লক্ষণ কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে কখনও উপস্থিত থাকে আবার কখনো উপস্থিত থাকে না তাকে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন— কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য। জাতিগত উপলক্ষণ বিধেয়কের উপলক্ষণের একটি প্রকার যা জাতিসূচক জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। আর ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বিধেয়কের অবান্তর লক্ষণের একটি প্রকার যা জাত্যর্থের অংশ নয় কিংবা জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃতও নয় ।উদ্দীপকে নীরবের বক্তব্যে বলা হয়েছে, প্রজাপতিদের প্রাণ আছে বলেই এরা খাবার গ্রহণ করে, বৃদ্ধি পায় আবার মারাও যায়। 'প্রাণ”, 'খাবার গ্রহণ', 'বৃদ্ধি' ও 'মৃত্যু' প্রজাপতির আসন্নতম জাতি 'জীববৃত্তি' নামক জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। তাই এগুলো জাতিগত উপলক্ষণকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে, বর্ষণ প্রজাপতির রং দেখে চেকশার্ট বানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। প্রজাপতির রং দেখে চেকশার্ট বানানোর বিষয়টি বর্ষণের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। বিষয়টি যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। তাই এটি বর্ষণের ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণকে নির্দেশ করে। তাই আলোচনা শেষে বলা যায়, নীরব ও বর্ষণের বক্তব্যে বিধেয়কের জাতিগত উপলক্ষণ ও ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে।