উদ্দীপকে গাইড সম্পর্কে 'বুদ্ধিমত্তা' ও 'বিচক্ষণতা' নামক দুটি গুণ প্রকাশ পেয়েছে। যা পাঠ্যবইয়ের বিভেদক লক্ষণ ও উপলক্ষণ বিধেয়ককে নির্দেশ করে।
যে গুণ বা গুণাবলি কোনো জাতির অন্তর্গত অন্যান্য উপজাতি থেকে একটি বিশেষ উপজাতিকে আলাদা করে সেই গুণ বা গুণাবলিকে বিভেদক লক্ষণ বলে। অর্থাৎ, বিভেদক লক্ষণ হচ্ছে কোনো উপজাতির এমন কোনো গুণ বা গুণাবলি যা তার সারসত্তাকে প্রকাশ করে। এসব গুণের মাধ্যমে একই জাতি বা শ্রেণির অন্তর্গত অন্যান্য উপজাতি বা উপশ্রেণি থেকে একটি বিশেষ উপজাতি বা উপশ্রেণিকে আলাদা করা যায়। যেমন- উদ্দীপকে গাইড সম্পর্কে বর্ণিত 'বুদ্ধিমত্তা' বা 'বুদ্ধিবৃত্তি' হচ্ছে বিভেদক লক্ষণ। কেননা এই গুণটিই মানুষকে জীব জাতির অন্তর্গত অন্যান্য উপজাতি, যেমন- গরু, ছাগল, ঘোড়া, ভেড়া, গাধা ইত্যাদি থেকে পৃথক করেছে।
অন্যদিকে, উপলক্ষণ হলো বিভেদক লক্ষণ থেকে নিঃসৃত বা অনুমিত কোনো গুণ, যে গুণ কোনো একটি পদের জাত্যর্থ বা জাত্যর্থের অংশ নয়; কিন্তু জাত্যর্থ বা এর কোনো অংশ থেকে অনির্দিষ্টভাবে নিঃসৃত হয়। অর্থাৎ উপলক্ষণ কোনো পদের এমন ধরনের গুণ যা জাত্যর্থের অংশ না হলেও জাত্যর্থের সাথে অনিবার্যভাবে যুক্ত। কারণ থেকে যেভাবে কার্য নিঃসৃত হয় অথবা আশ্রয়বাক্য থেকে যেভাবে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় সেভাবে জাত্যর্থ থেকে উপলক্ষণ অনুমিত হয়। যেমন-উদ্দীপকে গাইড সম্পর্কে 'বিচক্ষণতা' গুণটি মানুষ পদের 'বুদ্ধিবৃত্তি' নামক গুণ থেকে অনিবার্যভাবে • অনুমিত হয়। কারণ বুদ্ধির গুণেই আমরা জগতের ভালো-মন্দ বিচার করতে পারি।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে গাইড সম্পর্কে 'বুদ্ধিমত্তা' ও 'বিচক্ষণতা' নামক গুণ দুটি বিধেয়কের বিভেদক লক্ষণ ও উপলক্ষণকে নির্দেশ করে। এ কারণে এ দুটি গুণ একটি থেকে অন্যটি আলাদা।