দৃশ্যকল্প-২ এ বিভেদক লক্ষণকে নির্দেশ করে এবং দৃশ্যকল্প-৩ উপলক্ষণকে নির্দেশ করে। তাই দৃশ্যকল্প-২ ও ৩ দ্বারা নির্দেশিত বিধেয়ক একই ধরনের নয়।নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো- আমরা জানি, যে গুণের কারণে একই জাতির অন্তর্ভুক্ত একটি উপজাতিকে তার সমজাতীয় অন্যান্য উপজাতি থেকে পৃথক করা হয় তাকে বিভেদক লক্ষণ বলে । বিভেদক লক্ষণ হলো জাত্যর্থের অপরিহার্য অংশ বিশেষ। যেমন— মানুষের রয়েছে 'বুদ্ধিবৃত্তি' ও 'জীববৃত্তি' নামক গুণ। অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রাণীর রয়েছে 'জীববৃত্তি' গুণ। এই 'বুদ্ধিবৃত্তি' গুণের কারণে মানুষ তার সমজাতীয় অন্যান্য উপজাতি থেকে পৃথক। এজন্য 'বুদ্ধিবৃত্তি' গুণকে মানুষ পদের বিভেদক লক্ষণ বলে । দৃশ্যকল্প-২ এ বলা হয়েছে 'মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী'। এখানে বুদ্ধিবৃত্তি গুণটি মানুষ পদের বিভেদক লক্ষণ। কারণ এ গুণের জন্যই মানুষ তার অন্যান্য উপজাতি থেকে আলাদা ।অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-৩ এ বর্ণিত, মানুষ হয় মরণশীল প্রাণী। এখানে 'মরণশীল' গুণটি মানুষ পদের উপলক্ষণ। কেননা এটি মানুষ পদের জাত্যর্থ না হলেও 'জীববৃত্তি' নামক জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত। কারণ আমরা জানি, উপলক্ষণ কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ না হলেও পদটির জাত্যর্থ থেকে উপলক্ষণ নিঃসৃত হয়। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ ও ৩ দ্বারা নির্দেশিত বিধেয়ক একই ধরনের নয়।