এ উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এর মাধ্যমে শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ এবং দৃষ্টান্ত-৩ এর মাধ্যমে শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
বিধেয়কের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সর্বশেষ হলো অবান্তর লক্ষণ। বিধেয়কের অবান্তর লক্ষণকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে একটি হলো শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। অন্যটি হলো শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। যে অবান্তর লক্ষণ কোনো জাতির বেলায় সর্বদাই উপস্থিত এবং যাকে কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যায় না তাকে শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে।
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এ 'সকল কাক হয় কালো' এখানে কালো রংটি সকল কাকের 'অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। কেননা কালো রং সকল কাকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং কাক থেকে এ রংটি আলাদা করা যায় না। এটি কাকের অস্তিত্বের সাথে জড়িত এবং কাকের সার্বিক গুণ। তাই দৃষ্টান্ত-২ এ বিধেয়কের শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ নির্দেশিত হয়েছে।
অপরদিকে, দৃষ্টান্ত-৩ এ 'কিছু পাখি হয় সুকণ্ঠি'। এখানে 'সুকণ্ঠি' গুণটি পাখির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও সকল পাখির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় আবার পাখির সার্বিক গুণ নয়। এ গুণটি পাখি শ্রেণি থেকে আলাদা করা যায়। পাখির মধ্যে এ গুণটি সবসময় থাকে না। কোনো কোনো সময় উপস্থিত থাকে আবার কোনো কোনো সময় উপস্থিত থাকে না। তাই দৃষ্টান্ত-৩ এর মাধ্যমে শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ নির্দেশিত হয়েছে।
সুতরাং যে গুণ ব্য, গুণাবলি কোনো জাতির ক্ষেত্রে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত সে গুণ বা গুণাবলি হলো শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। আর যে গুণ বা গুণাবলি জাতির সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত নয় সে গুণ বা গুণাবলি হলো: শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।